নিজস্ব প্রতিনিধি : রাজধানীর তুরাগে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচির পর থেকে নিখোঁজ হওয়া সাতজন যুবকের মধ্যে তিনজনের অর্ধগলিত লাশ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই নির্মম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চেয়ে এখন উত্তাল হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। দেশের বড় বড় মূলধারার গণমাধ্যমগুলো এই ঘটনা নিয়ে রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করলেও সাধারণ মানুষ ফেসবুকে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
হাজার হাজার ফেসবুক ব্যবহারকারী তাঁদের প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তন করে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করছেন এবং ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন। গত ২২ জুন সোমবার অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের একটি মিছিলের পর থেকেই ওই যুবকেরা নিখোঁজ ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ জুন তুরাগ এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা একটি মিছিল বের করেন। ওই কর্মসূচির পর থেকেই স্থানীয় সাতজন যুবক রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁদের কোনো সন্ধান পাননি।
নিখোঁজের কয়েকদিন পর তুরাগ নদী থেকে তিন যুবকের ভাসমান ও অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতদের শরীরে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিক আলামত ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজ যুবকদের পিটিয়ে ও নৃশংসভাবে নির্যাতন করে হত্যার পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উদ্ধার হওয়া তিনজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখনও চারজন যুবক নিখোঁজ রয়েছেন এবং নিখোঁজদের স্বজনদের মাঝে চলছে বুকফাটা আহাজারি।
এদিকে মূলধারার মিডিয়া এই খবর এড়িয়ে যাওয়ায় নেটিজেনরা ফেসবুকেই প্রতিবাদের মূল মঞ্চ গড়ে তুলেছেন। তাঁরা অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং এর সাথে জড়িত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
