নিজস্ব প্রতিনিধি : সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্যবিরোধী সমাজ গঠনের অঙ্গীকারের মধ্যেই প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে দেশের সেবাখাতে দুর্নীতির ব্যাপকতা ও গভীরতা পূর্বের তুলনায় আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের চেয়ে বর্তমান অন্তর্বর্তী আমলে দুর্নীতির গ্রাস ও ঘুষের বিস্তার আরও তীব্র হওয়ার চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সর্বশেষ জাতীয় খানা জরিপে।
সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ আমলের ২০২৩ সালের পরিস্থিতির তুলনায় ২০২৫ সালে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসে সেবাখাতে দুর্নীতির কারণে দেশজুড়ে প্রায় ১২ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের ঘুষ লেনদেন হয়েছে, যা জাতীয় বাজেটের প্রায় ১ দশমিক ৫৮ শতাংশের সমান। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর ধানমণ্ডির মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘সেবাখাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ এর এই বিস্ফোরক ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
টিআইবি জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ড. ইউনূস সরকারের অধীনে দেশের সেবাগ্রহীতাদের ৮১ দশমিক 6 শতাংশ কোনো না কোনো খাতে ভয়াবহ দুর্নীতির শিকার হয়েছেন, যা আওয়ামী লীগ আমলের ২০২৩ সালের জরিপে ছিল ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দুর্নীতির মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান ড. ইউনূস সরকারের আমলের এই প্রাতিষ্ঠানিক ঘুষ লেনদেন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যারা ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছেন, তাদের সিংহভাগই জানিয়েছেন যে ঘুষ না দিলে কোনো সরকারি সেবা পাওয়া যায় না। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ঘুষকে একটি অলিখিত বাস্তবতায় পরিণত করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই দুর্নীতি চরম বৈষম্যমূলক এবং এটি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার মূল ধারণার সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
একই সাথে ড. ইউনূস সরকারের আমলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চরম অকার্যকারিতা ও স্থবিরতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, বিগত তিন থেকে সাড়ে তিন মাস ধরে কোনো কমিশন না থাকায় ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুদক বর্তমানে বাস্তবে সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে।
৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর ড. ইউনূস সরকারের সুশাসনের দাবির মুখে টিআইবির এই অকাট্য ও তুলনামূলক ডাটা দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে এক নজিরবিহীন তোলপাড় ও ভূকম্পন সৃষ্টি করেছে। অন্তর্বর্তী আমলের এই দুর্নীতির গ্রাস বন্ধে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের খবরাখবর অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
