কড়া নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মাঝেই রাজধানী ঢাকায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এই উপলক্ষে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান সোহানের বিশেষ উদ্যোগে রাজধানীর একটি মিলনায়তনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রতিকূল পরিস্থিতি উপেক্ষা করে যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই ঘরোয়া আয়োজনে যোগ দিয়ে নেতাকর্মীরা দল ও নেতৃত্বের প্রতি তাঁদের অবিচল আনুগত্যের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ১৫ আগস্টের সকল শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সঙ্গে দলের সভাপতি শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে । এরপর টুঙ্গিপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান সোহান উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন। দীর্ঘ ৭ দশকেরও বেশি সময় ধরে বাঙালির স্বাধীনতা ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক অবদান নিয়ে অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে আয়োজক সাজেদুর রহমান সোহান বলেন,“বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি বাঙালির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের মূল কারিগর। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন রোজ গার্ডেন থেকে যে কাফেলার যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ ৭৭ বছরে পদার্পণ করেছে। স্বৈরাচার আর ষড়যন্ত্রকারীরা বারবার এই সংগঠনকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু আওয়ামী লীগ হলো ফিনিক্স পাখির মতো যা ধ্বংসস্তূপ থেকে বারবার জেগে ওঠে। টুঙ্গিপাড়ার মাটি যেমন বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিধন্য, তেমনই টুঙ্গিপাড়া ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মী যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে প্রস্তুত।”
তিনি আরও বলেন, “আজকে যারা ভাবছেন মামলা-হামলা আর গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগকে মাঠ থেকে বিদায় করে দেবেন, তাঁরা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। আমাদের শিকড় এদেশের মাটির অনেক গভীরে। রাজধানীর বুকে আজকের এই সুশৃঙ্খল উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, কোনো রক্তচক্ষু আমাদের আদর্শকে স্তব্ধ করতে পারবে না। খুব শীঘ্রই সকল মেঘ কেটে যাবে এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা আবার নতুন উদ্যমে দেশের সেবায় ফিরব।”
অনুষ্ঠানের শেষভাগে উপস্থিত নেতাকর্মীরা দল পুনর্গঠন এবং যেকোনো শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
