নিউ ইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের এবারের আয়োজনে সঙ্গীতে বিশেষ অবদানের জন্য বিশেষ সম্মাননা পেয়েছেন সংগীতশিল্পী টি ডব্লিউ সৈনিক। বাংলা সংগীতের প্রতি তাঁর দীর্ঘদিনের অবদান ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত চার দিনব্যাপী এই চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র, সংস্কৃতি ও শিল্পীদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। উৎসবের বিভিন্ন আয়োজনের পাশাপাশি বাংলা সংস্কৃতি ও সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা গুণীজনদের সম্মান জানানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় টি ডব্লিউ সৈনিকের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিশেষ সম্মাননা।
সম্মাননা পাওয়ার পর টি ডব্লিউ সৈনিক নিউ ইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় তিনি জানান, সংগীতে তাঁর বিশেষ অবদানের জন্য ফেস্টিভ্যাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে সম্মানিত করায় তিনি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত।
টি ডব্লিউ সৈনিকের এই সম্মাননা প্রাপ্তি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, প্রবাসে বাংলা সংগীতচর্চা ও বাংলা সংস্কৃতির বিকাশেও একটি ইতিবাচক স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এবারের উৎসবে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের সেরা চলচ্চিত্র, নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীদের বিভিন্ন বিভাগে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
প্রিয়তমা সিনেমায় অসামান্য অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন শাকিব খান ও সেরা চলচ্চিত্র প্রিয়তমা। দেয়ালের দেশ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রী নির্বাচিত হয়েছেন শবনম বুবলী।
এছাড়া আরো যাঁরা পুরস্কৃত হয়েছেন তাঁরা হলেন সেরা পার্শ অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী (তুফান), সেরা পার্শ অভিনেত্রী সানজিদা প্রীতি (১৯৭১ সেইসব দিন), শ্রেষ্ঠ ওয়েব ফিল্ম কাছের মানুষ দূরে থুইয়া ও পরিচালক শিহাব শাহীন, সেরা অভিনেতা (ওয়েব ফিল্ম) মামুনুন ইমন (মায়া), সেরা অভিনেত্রী (ওয়েব ফিল্ম) আফসান আরা বিন্দু (উণিশ ২০),
শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী কাজী আরিশা (গ্রীন কার্ড) ও নৈঋতা হাসিন রৌদ্রময়ী (জংলী), শ্রেষ্ঠ গায়ক বালাম (প্রিয়তমা- ও প্রিয়তমা) ও প্রীতম হাসান (লাগে উড়া ধুরা- তুফান), শ্রেষ্ঠ গায়িকা অবন্তি সিঁথি (সুড়ঙ্গ- গা ছুঁয়ে বলো), শ্রেষ্ঠ কহিনিকার ড. ইনামুল হক (১৯৭১ সেই সব দিন), শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার, নাজিম উদ দৌলা ও রাহয়ান রাফী (সুড়ঙ্গ), শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক সুমন সরকার (সুড়ঙ্গ) ও সাহেল রনি (দেয়ালের দেশ), শ্রেষ্ঠ সম্পাদক সিমিত রায় অন্তর (সুড়ঙ্গ), কামরুজ্জামান রনি (১৯৭১- সেই সব দিন), শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক রিপন নাথ (তুফান), শ্রেষ্ঠ গীতিকার আসিফ ইকবাল (মেঘের নৌকা- প্রহেলিকা) ও সোমেশ্বর অলি (ঈশ্বর- প্রিয়তমা), শ্রেষ্ঠ সুরকার প্রিন্স মাহমুদ (ঈশ্বর- প্রিয়তমা), শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক ইমন সাহা (প্রহেলিকা)
শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র লস্ট (Lost) ও শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র Songs for a Country (একটি দেশের জন্য গান)।
বাংলা চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কিংবদন্তি অভিনেতা আহমেদ শরীফ-কে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া বাংলা চলচ্চিত্রের বিকাশে বিশেষ অবদান রাখার জন্য সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করে বায়োস্কোপ ফিল্মস, স্টার সিনেপ্লেক্স এবং জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘চরকি’।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, চলচ্চিত্রের পাশাপাশি বাংলা সংগীত ও সংস্কৃতিতে যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন, তাঁদের সম্মান জানানোও নিউ ইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের অন্যতম উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতেও এমন গুণী শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের সম্মানিত করার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, নিউ ইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২৬-এর বিভিন্ন আয়োজনে বাংলা চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির নানা দিক তুলে ধরা হয়। উৎসবটি নিউ ইয়র্কে বাংলা চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির সঙ্গে প্রবাসী দর্শকদের আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
