নিজস্ব প্রতিনিধি: বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় দোকানঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বাবু রাড়ী (২৫) নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আজ বুধবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার সাদেকপুর গ্রামে গভীর শোক ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নিহত বাবু রাড়ী মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাদেকপুর গ্রামের দুলাল রাড়ীর ছেলে। তিনি স্থানীয় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পশ্চিম সাদেকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নিজেদের জমিতে একটি দোকানঘর নির্মাণ করাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বাবু রাড়ীর বিরোধ চলছিল। গতকাল মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে এই বিরোধের জেরে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে স্থানীয় বজলু বয়াতী, জাহাঙ্গীর মাল, শহীদ পোদ্দার ও নয়ন পোদ্দারসহ ৮ থেকে ৯ জনের একটি দল বাবুর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
স্বজনদের অভিযোগ, হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক মারধর করে বাবুর মাথা ফাটিয়ে দেয় এবং হাত-পা ভেঙে ফেলে। পরে গুরুতর আহত ও অচেতন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ভোর চারটার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ছেলের অকাল মৃত্যুতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাবা দুলাল রাড়ী বলেন, “আমার ছেলেকে ৮-৯ জন মিলে নির্মমভাবে পিটিয়েছে। মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে, হাত-পা ভেঙে দিয়েছে। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে সে ছিল দ্বিতীয়।” নিহত বাবুর চাচা খোরশেদ রাড়ী জানান, প্রায় এক মাস আগেও বাবুকে মারধর করা হয়েছিল। এবার তারা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করেছে।
নিহত বাবু রাড়ী ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন উল্লেখ করে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা সভাপতি নীরব ব্যাপারী বলেন, “বাবু আমাদের সংগঠনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তবে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থাকায় তাঁকে কোনো পদে অধিষ্ঠিত করা যায়নি। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসবে বলে আমরা মনে করি। আমরা হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাচ্ছি।”
অন্যদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক কোনো কারণ নেই উল্লেখ করে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন দীপেন বলেন, “আমরা যত দূর শুনেছি, জমি নিয়ে স্থানীয় দ্বন্দ্বের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে।” ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে থাকায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মেহেন্দীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিন উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাঁদের দ্রুত গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
