নিজস্ব প্রতিনিধি : জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশ নিয়ে অক্সফোর্ড ইউনিয়ন ডিবেটিং সেন্টারে আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় যোগদানের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম। প্রবাসীদের সম্ভাব্য বিক্ষোভের অতীত স্মৃতি স্মরণ করে তিনি এই লন্ডন সফর বাতিল করেছেন বলে জানা গেছে।
কয়েক সপ্তাহ আগে অক্সফোর্ডের বাংলা সোসাইটি ঐতিহ্যবাহী অক্সফোর্ড ইউনিয়ন ডিবেট সেন্টারে জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করে। উদ্যোক্তাদের মূল লক্ষ্য ছিল জুলাই বিপ্লবের বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিদের একই প্ল্যাটফর্মে এনে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়া।
এই উদ্দেশ্যে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তবে বিএনপির অনেক প্রথম সারির নেতা এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে উৎসাহী না থাকায় বা সাড়া না দেওয়ায় দলের পক্ষ থেকে অধ্যাপক নাহরীনকে চূড়ান্ত প্রতিনিধি হিসেবে প্রস্তাব করা হয় এবং তিনি তাতে রাজি হন।
একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে প্রেস সচিব শফিকুল আলমও অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সম্মতি জানান। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসনাত আবদুল্লাহ, সাদিক কায়েম, নাবিলা, শফিকুল আলম ও অধ্যাপক নাহরীনের ছবি সম্বলিত একটি অফিশিয়াল পোস্টারও প্রকাশ করেন আয়োজকরা।
তবে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত আওয়ামী লীগ সমর্থক ও প্রবাসীরা এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে তীব্র প্রতিবাদ-বিক্ষোভের ডাক দেন। যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের এই ব্যাপক প্রতিবাদের খবর পেয়ে একপ্রকার ভড়কে যান শফিকুল আলম এবং তাঁর মনে পড়ে যায় লন্ডন সফরের পূর্বের এক অপ্রীতিকর অতীত স্মৃতি।
এর আগে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর এক লন্ডন সফরে গিয়ে স্থানীয় বাংলাদেশিদের হাতে চরম হেনস্তার শিকার ও তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়েছিলেন শফিকুল আলম। সেই তেতো অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে এবার আর কোনো ঝুঁকি না নিয়ে শেষ মুহূর্তে তিনি অনুষ্ঠানটিতে অংশ নেওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকেন।
এদিকে অনুষ্ঠান শুরুর মাত্র ৩০ ঘণ্টা আগে বিএনপির অফিশিয়াল প্রতিনিধি অধ্যাপক নাহরীনও আকস্মিকভাবে এই সেমিনারে অংশগ্রহণে তাঁর অপারগতা প্রকাশ করেন। একের পর এক প্রধান অতিথিদের এমন অনুপস্থিতিতে চরম বিপাকে পড়েন আয়োজকরা।
আয়োজক সূত্র জানিয়েছে, শেষ মুহূর্তে প্রতিনিধি প্রত্যাহার করায় তারা বিএনপির ওপর তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করছেন, দেশের বর্তমান অন্যতম প্রধান এই রাজনৈতিক দলটি যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিনিধি পাঠাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
এই সফর বাতিল ও উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে প্রেস সচিব শফিকুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে প্রবাসী রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনাটি নিয়ে বর্তমানে বেশ আলোচনা ও গুঞ্জন চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, প্রবাসে ক্রমাগত তীব্র প্রতিবাদ ও বিরোধিতার মুখে পড়ার কারণে জুলাই আন্দোলনের মূল নেতৃত্ব ও অন্তর্বর্তী সরকারের কর্তাব্যাক্তিদের জন্য বৈশ্বিক পরিমণ্ডল দিন কে দিন সংকুচিত হয়ে আসছে।
