ফোরটিন ডেস্ক :
খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ডিপ্লোমা ইন অর্থোপেডিক্স কোর্সে অধ্যয়নরত প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসক ডা. জিল্লুর রহমানকে হাসপাতালের ভেতরেই বর্বরোচিতভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশ্যে এই হামলার পর নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে নিয়মিত ক্লাস, বিভাগীয় প্রশিক্ষণ ও রোগীসেবায় অংশ নেওয়া সম্ভব নয় জানিয়ে হাসপাতালের পরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী চিকিৎসক।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় হাসপাতালের সাধারণ চিকিৎসক, শিক্ষার্থী ও রোগীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, ডা. জিল্লুর রহমান গত ১ জুলাই সরকারি আদেশে খুলনা মেডিকেল কলেজে ডিপ্লোমা ইন অর্থোপেডিক্স কোর্সে ভর্তি হয়ে হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি জেলা স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) প্রচার সম্পাদক।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনার দিন দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে অর্থোপেডিক্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছিলেন ডা. জিল্লুর। এ সময় খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক ডা. আবু জাফর সালেহ, ডা. ডেভিডসহ কয়েকজন আউটসোর্সিং কর্মচারী সেখানে উপস্থিত হন। ডা. আবু জাফর সালেহ বিভাগীয় প্রধানকে জানান যে ডা. জিল্লুর এই হাসপাতালে কোর্স করতে পারবেন না। বিভাগীয় প্রধান সরকারি আদেশের কথা জানালে দুই পক্ষের মধ্যে প্রচণ্ড বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
অভিযোগ উঠেছে, একপর্যায়ে ডা. জিল্লুর রহমানকে লাথি মারা হয় এবং কয়েকজন মিলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। এমনকি তাকে মারতে মারতে ৩য় তলা থেকে টেনে-হিঁচড়ে নিচতলা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। ডা. জিল্লুর জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় তার একটি পা আগে থেকেই ভাঙা ছিল, হামলায় সেই ভাঙা পায়েও আঘাত করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক ডা. আবু জাফর সালেহের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে খুলনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ আমানুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, “কারও বিরুদ্ধে কোনো ক্ষোভ বা অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে, তবে শারীরিক নির্যাতন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আমাদের শিক্ষার্থী, তার পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রশাসনিক দায়িত্ব।” বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
