নিজস্ব প্রতিনিধি:রাজধানীর মহাখালী এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’ এক অতর্কিত ও ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল করেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের ব্যানারে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড ও এর আশপাশের রাজপথে এই শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়।
সকালের ব্যস্ত সময়ে আকস্মিকভাবে একদল নেতাকর্মী ব্যানার নিয়ে রাজপথে নেমে আসেন এবং নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। ককটেলের বিকট আওয়াজে পুরো মহাখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে হুড়োহুড়ি তৈরি হয়।
মিছিলটি যখন মহাখালী বাসস্ট্যান্ডের মূল পয়েন্টে এসে পৌঁছায়, তখন আকস্মিকভাবে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন নারী নেত্রী ও কর্মী সেই ঝটিকা মিছিলে সরাসরি অংশ নেন। এ সময় মিছিলে থাকা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দলটির সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে— “শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই” এবং “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু” স্লোগান দিতে থাকেন।
নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের প্রকাশ্য রাজপথে ককটেল ফাটিয়ে এমন মিছিলের খবর ছড়িয়ে পড়া মাত্রই পুরো রাজধানীতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে মিছিলের সাথে সরাসরি জড়িত ২ জন সক্রিয় কর্মীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সরকারিভাবে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ মহাখালী এলাকায় হুট করে একটি ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা করে এবং আতঙ্ক ছড়াতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ দ্রুততম সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
তিনি আরও জানান যে, পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানের মুখে ছাত্রলীগের মিছিলকারীরা দ্রুত গলির ভেতর পালিয়ে গেলেও পুলিশ ধাওয়া করে ঘটনাস্থল ও এর আশপাশ থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ককটেল হামলাকারী ও নারী নেত্রীদের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার কর্তৃক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ হওয়ার পর রাজধানীতে ছাত্রলীগের এটিই অন্যতম প্রধান ও বড় ধরনের প্রকাশ্য শোডাউনের অপচেষ্টা। বিশেষ করে মিছিলে নারী কর্মীদের অংশগ্রহণ এবং ককটেল বিস্ফোরণের কৌশল স্পষ্ট করে যে, আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে ঢাকার রাজপথে একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা তৈরির সুপরিকল্পিত ছক আঁকছে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব।
মহাখালীর এই ঝটিকা মিছিল মূলত সেই পরিকল্পনারই একটি অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনার পর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে বিশেষ চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে এবং মহাখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
