নিজস্ব প্রতিনিধি : খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের গভীর রাতে অশালীন বার্তা প্রেরণ, যৌন হয়রানি এবং অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেওয়ার এক রোমহর্ষক ও লজ্জাজনক অভিযোগ উঠেছে। এক ছাত্রীর লিখিত অভিযোগের পর বিষয়টি সামনে আসতেই বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম ফেসবুক মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে ছাত্রীদের ব্যক্তিগতভাবে নক করে বিভিন্ন অস্বস্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতেন। ইতিমধ্যে এই শিক্ষক ও ছাত্রীদের কথিত কথোপকথনের একাধিক স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে দেশব্যাপী নিন্দার রোল উঠেছে।
ছড়িয়ে পড়া সেসব স্ক্রিনশটে দেখা যায়, ওই শিক্ষক ছাত্রীদের উদ্দেশে লিখেছেন— “বন্ধু হবা, কফি খাব আর মজা করব”, “বন্ধুর সঙ্গে হাগ করলে ডিপ্রেশন থাকে না”, “আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারব না, তোমার মতো মেয়ে বিয়ের আগে পাওয়া দরকার ছিল” ইত্যাদি।
গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধকেন্দ্রে ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রমাণসহ একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে শিক্ষকের অপসারণ দাবি করেন। ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষক শুধু মেসেঞ্জারেই নয়, হোয়াটসঅ্যাপ কলেও তাকে উত্যক্ত করতেন। ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়ার আগে শিক্ষকের এমন আচরণে তিনি চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর একই বিভাগের আরও কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। এক সাবেক ছাত্রী জানান, প্রায় এক যুগ আগেও শিক্ষক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে গভীর রাতে ফোন দিয়ে ছাত্রীদের নানা ধরনের আপত্তিকর ও অস্বস্তিকর প্রশ্ন করার ইতিহাস রয়েছে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব গুরুতর অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম। তাঁর দাবি, এই অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। তিনি এক আজব দাবি করে বলেন, “অপপ্রচার শুরু হওয়ার পর আমার ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ডিলিট হয়ে গেছে। এ বিষয়ে থানায় জিডি করা হয়েছে, কিন্তু এখনো ফোনটি উদ্ধার হয়নি।” ডিসিপ্লিন প্রধান হিসেবে নিয়মবহির্ভূত কাজে বাধা দেওয়ায় ঈর্ষা থেকে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা ও গুরুত্ব বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। তাঁর স্থলে ড. মো. ইয়াসিনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশিদ খাঁন।
অন্যদিকে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বুধবার বিকেলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়কে নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন হিসেবে গড়ে তুলতে এই ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
