নিজস্ব প্রতিনিধি :ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে গভীর রাতে ঘরে ঢুকে অস্ত্রের মুখে স্বামীর হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে এক গৃহবধূকে (২০) তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের লোমহর্ষক অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামে এই পৈশাচিক ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর আজ বুধবার সকালে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ভুক্তভোগী পরিবারটি স্থানীয় থানায় হাজির হয়ে পুলিশকে বিস্তারিত জানায়। সাত থেকে আটজনের একটি সশস্ত্র দল ওই নারীকে ধর্ষণের পর পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ওই গৃহবধূ তাঁর কৃষক স্বামীকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাবার বাড়িতেই বসবাস করে আসছিলেন। গতকাল দিবাগত রাত একটার দিকে ডাকাত দলের মতো সাত থেকে আটজনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র দরজা ভেঙে হঠাৎ ওই গৃহবধূর ঘরে প্রবেশ করে।
তারা ঘরে ঢুকেই অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে ফেলে এবং গৃহবধূর স্বামীর হাত-পা, চোখ ও মুখ শক্ত করে বেঁধে ফেলে। পরে ওই তরুণীকে টেনেহিঁচড়ে পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে পৈশাচিকভাবে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে।
ধর্ষণের পর প্রায় দুই ঘণ্টা কেটে গেলে ওই নারী মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন অপরাধীরা তাঁকে তাঁর মায়ের ঘরে নিয়ে আসে এবং সেখানে ওই গৃহবধূ ও তাঁর মাকে পুনরায় জিম্মি করে ঘরে থাকা নগদ ৩০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগীর মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখায় প্রাণভয়ে আমরা চিৎকার করে মানুষ ডাকতে পারিনি। পুরো দলে আটজন ছিল, যার মধ্যে তিন থেকে চারজনকে আমরা চিনতে পেরেছি।
গফরগাঁওয়ের পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা দলবদ্ধ ধর্ষণের মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি এবং তাঁরা এখন লিখিত এজাহার দিচ্ছেন। ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে পুলিশ ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে।
ওসি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে জমিজমা নিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে ওই নারীর প্রতিবেশীরাই এই জঘন্য কাজ করেছেন। ভুক্তভোগী নারী এখন খুবই অসুস্থ এবং থানায় আছেন, লিখিত এজাহার সম্পন্ন হওয়ার পরপরই তাঁকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হবে।
