নিজস্ব প্রতিনিধি : শরীয়তপুরের সদর উপজেলায় গ্রেফতার হওয়া এক আওয়ামী লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের একাংশের নেতাকর্মীরা। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের গয়াতলা বাজার এলাকায় এই ব্যতিক্রমী বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনাটি ঘটে।
ইতিমধ্যে ওই বিক্ষোভ ও মিছিলের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিনোদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান লিটন মুন্সি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত। গত সোমবার সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করে পালং মডেল থানা পুলিশ।
লিটন মুন্সি গ্রেফতার হওয়ার পরদিনই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার মুক্তির দাবিতে গয়াতলা বাজার এলাকায় একটি ঝটিকা মিছিল বের করা হয়। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া প্রায় ৪০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি হারুন সরদার, যুবদল নেতা মাহফুজ সরদার ও বোরহান মোল্লাসহ বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা সেখানে সরাসরি অংশ নিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন।
এই বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতার পক্ষে মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়া যুবদল নেতা মাহফুজ সরদার দাবি করেন, আসাদুজ্জামান লিটন মুন্সি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও সম্প্রতি তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন এবং বর্তমানে তিনি তাদের দলেরই একজন কর্মী। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে করায় তারা এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেছেন।
তবে বিনোদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাদবর এই ঘটনা থেকে দায় সরিয়ে নিয়ে জানান, এটি ইউনিয়ন বিএনপির কোনও আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ছিল না। দলের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু ব্যক্তি ব্যক্তিগত স্বার্থে ও দলকে বিতর্কিত করতে এই মিছিল করেছেন এবং জেলা নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে আওয়ামী লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির একাংশের এই মিছিলের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শরীয়তপুর জেলার সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজির। তিনি বলেন, সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকা একজনের মুক্তির দাবিতে বিএনপির এই মিছিল জনগণের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী এবং রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ একটি ঘটনা।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আসাদুজ্জামান লিটন মুন্সিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই ব্যক্তি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে পদ্মা সেতু সংলগ্ন এলাকায় গুপ্ত মিছিল করা এবং সরকারবিরোধী রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে এবং এই চক্রের বাকিদের ধরতেও অভিযান চলছে।
