নিজস্ব প্রতিনিধি : জাতীয় সংসদে নিজেকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সন্তান’ দাবি করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুল মুনতাকিম। নির্বাচনী হলফনামা এবং পারিবারিক তথ্যে দেখা গেছে যে তার বাবা এখনো জীবিত আছেন এবং তার জন্মই হয়েছে স্বাধীনতার প্রায় ১০ বছর পর।
নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের এই সংসদ সদস্য সম্প্রতি সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা থাকার দাবি করেন। সেখানে তিনি তার বাবা ও দাদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন বলে বক্তব্য দেন।
তার এই বক্তব্যের পর নির্বাচনী হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায় যে ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি আব্দুল মুনতাকিম জন্ম গ্রহণ করেন। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় তার বয়স ছিল ৪৪ বছর ১১ মাস ২০ দিন যা প্রমাণ করে যে মুক্তিযুদ্ধের প্রায় ১০ বছর পর তার জন্ম হয়েছিল।
অনুসন্ধানে জানা গেছে যে আব্দুল মুনতাকিমের বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দী এবং মা মোসলমান বেগম দুজনেই বর্তমানে জীবিত আছেন। তারা সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ গ্রামে এই সংসদ সদস্যের সঙ্গেই বসবাস করছেন।
এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হওয়ার পর তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একজন জীবিত মানুষের সন্তান হয়ে নিজেকে শহীদের সন্তান দাবি করা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও নেটিজেনদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে।
বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত নিজের ভুল স্বীকার করেছেন সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম। তিনি জানান যে সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ভুল তথ্য ও শব্দ উচ্চারিত হয়েছে এবং এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছেন।
অন্য দিকে সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টিকে ‘স্লিপ অব টাং’ বা মুখ ফসকে হওয়া ভুল হিসেবে অভিহিত করেছেন।
