নিজস্ব প্রতিনিধি : কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় নিখোঁজের দুই দিন পর ৭ বছরের এক নিষ্পাপ ও অবুঝ শিশুর খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ ১৬ই জুন, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, শিশুটিকে পাশবিকভাবে ধর্ষণের পর অত্যন্ত নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ডোবায় ফেলে গেছে খুনিরা। নিহত ওই শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণীর ছাত্র ছিল। তার এই নির্মম মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া এবং ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ই জুন, রোববার সকালে প্রতিদিনের মতোই মাদ্রাসায় গিয়েছিল শিশুটি। বেলা ১টার দিকে মাদ্রাসা ছুটি শেষে তার বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও সে ঘরে না ফেরায় পরিবারের মাঝে চরম উৎকণ্ঠা ও আতঙ্ক শুরু হয়।
স্বজনরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করার পাশাপাশি এলাকায় তার নিখোঁজের খবর জানিয়ে মাইকিংও করান। কিন্তু দীর্ঘ দুই দিন ধরে তার কোনো সন্ধান মেলেনি। আজ মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা একটি পরিত্যক্ত ডোবার ময়লা পানিতে একটি শিশুর লাশ ভেসে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে মাতামুহুরী পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্টে শিশুটিকে ধর্ষণের স্পষ্ট আলামত পাওয়া গেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সন্তানের এমন মর্মান্তিক ও পৈশাচিক পরিণতিতে পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন হতভাগ্য বাবা। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, “গত রোববারই আমার ছেলেকে পাশবিকভাবে হত্যা করা হয়েছে। এরপর অপরাধ ঢাকতে মরদেহটি এই পরিত্যক্ত ডোবার ময়লা পানিতে ফেলে দেওয়া হয়, আমি এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং খুনিদের ফাঁসি চাই।”
জানতে চাইলে মাতামুহুরী police তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, “ can ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। শিশুটির পরিবার এবং এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ও সন্দেহের তালিকায় থাকা তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। তাদের পুলিশ হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।”
একটি ৭ বছরের অবুঝ শিশুকে কেন এবং কী কারণে এমন চরম নির্মমতার শিকার হতে হলো, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে স্থানীয় সচেতন মহল এই পাশবিক ঘটনার সাথে জড়িত মূল অপরাধীদের অনতিবিলম্বে চিহ্নিত করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
