নিজস্ব প্রতিনিধি : নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা আব্দুল মুনতাকিমের জাতীয় সংসদে দেওয়া একটি চাঞ্চল্যকর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও হাসির খোরাক তৈরি হয়েছে। পবিত্র সংসদে দাঁড়িয়ে নিজের পরিবারকে মহান মুক্তিযুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য অংশ দাবি করে তিনি যে তথ্য উপস্থাপন করেছেন, তা নিয়ে এখন নানা মহলে চরম বিতর্ক ও প্রশ্ন উঠছে।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে এই জামায়াত নেতা দাবি করেন, তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্য মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন এবং তাঁর নিজের বাবা ও দাদা দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন। এখানেই শেষ নয়, নিজের রক্ত সম্পর্কের পরিবার ও বংশে মোট ৪৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন বলেও তিনি স্পর্ধার সাথে সংসদে উল্লেখ করেন।
তবে তাঁর এই আবেগঘন ও নাটকীয় বক্তব্য প্রকাশের পরপরই নেটদুনিয়ায় তাঁর প্রকৃত বয়স, জন্মসাল এবং পারিবারিক অবিশ্বাস্য অসঙ্গতি নিয়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। জামায়াত নেতার এই ভুয়ো ও মনগড়া ইতিহাস নিয়ে সচেতন নেটিজেনরা রীতিমতো প্রমাণসহ জলঘোলা শুরু করেছেন।
বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র, নির্বাচনী হলফনামা এবং জাতীয় অনলাইন তথ্যভাণ্ডারে থাকা দাপ্তরিক নথিপত্র অনুযায়ী, এই সংসদ সদস্যের জন্মতারিখ ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি। সরকারিভাবে স্বীকৃত এই তথ্যের ভিত্তিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বক্তব্যের নৈতিকতা ও সত্যতা নিয়ে বিশাল প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।
সাধারণ মানুষ ও সমালোচকরা সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন, যেখানে মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল ১৯৭১ সালে, সেখানে ১৯৭১ সালে তাঁর নিজের বাবা যদি শহীদ বা মৃত্যুবরণ করে থাকেন, তবে দীর্ঘ ১০ বছর পর অর্থাৎ ১৯৮১ সালে এই জামায়াত নেতার জন্ম কীভাবে সম্ভব হলো। একজন মৃত মানুষের পক্ষে কীভাবে ১০ বছর পর সন্তান জন্ম দেওয়া সম্ভব, তা নিয়ে চলছে তুমুল ট্রল ও সমালোচনা।
তবে এই চরম লজ্জাজনক ও অবৈজ্ঞানিক অসঙ্গতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরও অভিযুক্ত সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিমের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বা যৌক্তিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তিনি বক্তব্যে ‘বাবা’ বলতে নিজের জৈবিক পিতাকে বুঝিয়েছেন নাকি অন্য কোনো রাজনৈতিক স্বার্থে রূপক অর্থে ব্যবহার করেছেন, তা এখনো সম্পূর্ণ ধোঁয়াশা।
সংসদে দাঁড়িয়ে এমন অসত্য ও অবাস্তব তথ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করার এই হীন চেষ্টায় ক্ষুব্ধ বীর মুক্তিযোদ্ধাগণও। সংশ্লিষ্ট পক্ষের সুনির্দিষ্ট আইনি ও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ছাড়া এই চরম বিভ্রান্তির জট না খুললেও, এই ঘটনাটি যে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক কৌতুক, তা নিয়ে কারো মনে কোনো সন্দেহ নেই।
