আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির অগ্রগতির খবরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮৪ ডলারে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) প্রায় ৮১ ডলারে নেমে এসেছে, যা মার্চ মাসের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ের মধ্যে অন্যতম।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিক শান্তি সমঝোতা এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাজারে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এ রুটে ঝুঁকি কমলে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে এবং দাম নিম্নমুখী হয়।
গত কয়েক মাসে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে তেলের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা যায়। এক পর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুড ১০০ ডলারের ওপরে এবং ডব্লিউটিআই ৯৫ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। তবে শান্তি আলোচনার অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য সমঝোতার খবর প্রকাশের পর থেকে বাজারে ধারাবাহিক দরপতন শুরু হয়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের দাম কমে আসা জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য স্বস্তির বার্তা। এতে পরিবহন, উৎপাদন ও বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় কিছুটা কমার সুযোগ তৈরি হতে পারে, যা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে বাজার পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান স্বস্তি এখনো ভঙ্গুর। কারণ শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং হরমুজ প্রণালীতে পূর্ণাঙ্গ নৌ চলাচল পুনরুদ্ধারের বিষয়গুলো এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। নতুন করে কোনো উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি উদ্যোগকে ঘিরে আশাবাদ বর্তমানে আন্তর্জাতিক তেলবাজারের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। তবে পরিস্থিতির স্থায়িত্ব নির্ভর করবে কূটনৈতিক অগ্রগতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার ওপর।
