নিজস্ব প্রতিনিধি : পাবনা সদর উপজেলায় প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে রিয়া (১৫) নামের নবম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। হত্যার পর নিহতের মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
গত বুধবার বিকেলে পাবনা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই হত্যাকাণ্ডের তথ্য নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত police সুপার রেজিনুর রহমান। এই নৃশংস ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকায় গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত রিয়া পাবনা সদরের ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর এলাকার বাসিন্দা প্রামাণিকের মেয়ে। সে স্থানীয় মাওলানা কসিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার সকালে ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পিরপুর এলাকায় পদ্মার চরে কৃষকেরা নদীর তীরে আটকে থাকা একটি রহস্যজনক প্লাস্টিকের বস্তা ভাসতে দেখেন। স্থানীয় লোকজন বস্তাটি পানি থেকে টেনে তুলে মুখ খোলার পর ওই স্কুলছাত্রীর মরদেহ দেখতে পান।
তাৎক্ষণিকভাবে থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলে সদর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ উদ্ধারের পর জেলা পুলিশ অভিযান চালিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্তসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— পূর্ব রাঘবপুর এলাকার নাইম, একই এলাকার ইয়াসিন শেখ এবং তুহিন প্রামাণিক। এর মধ্যে নাইমকে এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান হোতা বলে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত নাইমের সাথে স্কুলছাত্রী রিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে রিয়ার ওপর নির্যাতন ও ধর্ষণ চালানো হয় এবং পরবর্তীতে অপরাধ আড়াল করতে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছে।
এই বর্বরোচিত ঘটনায় এখনো পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে নিহতের স্বজনদের কাছ থেকে লিখিত এজাহার পাওয়ার সাথে সাথেই মামলাটি নথিভুক্ত করা হবে এবং আসামিদের আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড চাওয়া হবে।
এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো চক্র বা আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের গোয়েন্দা তদন্ত এবং আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ পুরোদমে অব্যাহত রয়েছে।
