নিজস্ব প্রতিবেদক: নামের মিল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিন্নতা নিয়ে তৈরি এক চরম প্রশাসনিক জটিলতার জেরে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য (ভিসি) পদের প্রজ্ঞাপন বাতিলের ঘটনা ঘটেছে। নিয়োগ পাওয়ার এক মাস না পেরোতেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে ভুলবশত তাকে ভিসি বানানো হয়েছিল।

মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া (বামে) ও মো. আমির হোসেন (ডানে)
গত ১৪ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে নিয়োগ পান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া। সেই অনুযায়ী ১৬ মে তিনি কর্মস্থলে যোগদান করে দাপ্তরিক কার্যক্রমও শুরু করেন। তবে যোগদানের ২৩ দিন পর প্রজ্ঞাপন সংশোধন করে তাঁর স্থলে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেনকে নতুন ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়াকে অব্যহতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, পুরো বিষয়টি একটি ‘টাইপিং মিসটেক’ বা মুদ্রণজনিত ভুল। প্রথমজনকে নিয়োগের উদ্দেশ্যে ফাইল প্রস্তুত করা হলেও একই ধরণের নামের কারণে অসাবধানতাবশত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের তথ্য প্রজ্ঞাপনে যুক্ত হয়ে যায়। তবে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অনেকেই এই ঘটনাকে সাধারণ প্রশাসনিক ভুল হিসেবে মানতে নারাজ।

মো. আমির হোসেনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সদ্য অব্যাহতি পাওয়া ভিসির বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি, মানসিক নির্যাতন এবং গবেষণাপত্রে জালিয়াতির গুরুতর কিছু অভিযোগ রয়েছে। ১৪ মে তাঁর নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ মে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) ৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটিও গঠন করেছিল।

মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়াকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন
অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে যে, স্থানীয় এক প্রভাবশালী মন্ত্রীর পছন্দের ব্যক্তিকে ওই পদে বসাতেই তড়িঘড়ি করে এই নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় এই সমস্ত বিতর্ককে আড়াল করতে কেবল ‘টাইপিং মিসটেক’ বা ভুলবশত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় লেখা হয়েছিল বলে যুক্তি দেখাচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের এই যুক্তিকে সম্পূর্ণ অবিশ্বাস্য দাবি করে সদ্য সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আমির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ভুল হওয়া কোনোভাবেই সাধারণ ভুল হতে পারে না। এই সিদ্ধান্ত ফাইলের অনুমোদনকারী খোদ প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। না জানিয়ে এভাবে অব্যাহতি দেওয়ায় একজন শিক্ষক ও গবেষক হিসেবে তাঁর যে সামাজিক ক্ষতি হলো, তার দায়ভার মন্ত্রণালয়কে নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব জানান, প্রজ্ঞাপনে ভুলটি ধরা পড়ার পরপরই এক অতিরিক্ত সচিবের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অধ্যাপককে যোগদান করতে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি তার আগেই দায়িত্বভার গ্রহণ করে ফেলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা নৈতিক স্খলনের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে ইউজিসি-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
এদিকে, নতুন নিয়োগ পাওয়া ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেন প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সার্চ কমিটির কাছে তিনি জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছিলেন এবং তাঁর যোগ্যতার ভিত্তিতেই এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দুই আমির হোসেনের এই ঘটনা কাকতালীয় নাকি কোনো বিশেষ সমীকরণ, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
