নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার বর্বরোচিত মামলায় আসামি স্বামী ও স্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হয়েছে।
রোববার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা এবং অপরাধে সহযোগিতার দায়ে তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন।
সকাল থেকেই এই রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।
কারাগার থেকে কঠোর সুরক্ষায় আসামিদের আদালতে নিয়ে আসা হয় এবং বেলা ১১টার পর এজলাসে রায়ের বিবরণী পড়া শুরু করেন বিচারক। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুজনেই কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
চলতি বছরের মে মাসের মাঝামাঝিতে পল্লবী এলাকায় দ্বিতীয় শ্রেণির ওই ছাত্রীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন নিহতের বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে।
হত্যাকাণ্ডের মাত্র চার দিনের মাথায় পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এরপর ১ জুন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে মাত্র ১৯ দিনের মাথায় নজিরবিহীন গতিতে এই মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে ভুক্তভোগী শিশুকে কৌশলে নিজেদের বাসায় ডেকে নেন স্বপ্না। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে ওই শিশুর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে স্ত্রীকে হেফাজতে নেয় এবং পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ থেকে পালিয়ে থাকা মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
