নিজস্ব প্রতিনিধি: ময়মনসিংহে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে বিএনপিকর্মীকে রড-শাবল দিয়ে পিটিয়ে হত্যা: জামায়াত নেতাসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৪
ময়মনসিংহের কোতোয়ালি মডেল থানাধীন চর ঈশ্বরদিয়া এলাকায় পূর্বশত্রুতা ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে রানা মিয়া (৩৩) নামে এক একনিষ্ঠ বিএনপিকর্মীকে লোহার রড ও শাবল দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে চর ঈশ্বরদিয়া এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে গতকাল বুধবার সকালে কোতোয়ালি মডেল থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রধান আসামি মো. মফিদুল ইসলাম মাস্টার (৫৫) ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য এবং ৩নং আসামি মো. ফাহিম হাসান (২৫) তাঁর আপন ছেলে। নিহত রানা মিয়া স্থানীয় বিএনপির সক্রিয় কর্মী এবং ওই এলাকার মৃত শরাফ উদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় জামায়াত নেতা মফিদুল ইসলামের পরিবারের সঙ্গে রানার পরিবারের রাজনৈতিক বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। গত সোমবার তরল পানীয় খাওয়া নিয়ে দুই পক্ষের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নতুন করে বাগবিতণ্ডা হয়। এরই জেরে মঙ্গলবার বিকেলে রানার ভাই মোফাজ্জলের সঙ্গে মফিদুল ও তাঁর ছেলের কথা কাটাকাটি এবং একপর্যায়ে মারামারি শুরু হয়। তখন ঝগড়া থামাতে ও ভাইকে বাঁচাতে রানা এগিয়ে গেলে জামায়াত নেতা মফিদুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীরা রানার বুকে লোহার রড ও শাবল দিয়ে সজোরে আঘাত করেন। এতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রানাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই বর্বরোচিত হামলায় রানার পরিবারের আরও ৫-৬ জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের নবনিযুক্ত সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, ‘নিহত রানা গত নির্বাচনে আমার পক্ষে এলাকায় অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। তিনি বিএনপির একজন একনিষ্ঠ ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন। আমরা এই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
অপরদিকে, হত্যাকাণ্ডে নেতার জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে মহানগর জামায়াতের আমির কামরুল আহসান এমরুল দাবি করেছেন, ‘ঘটনাটি রাজনৈতিক নয়, বরং এটি সম্পূর্ণ পারিবারিক বা গোষ্ঠীগত বিরোধের জেরে ঘটেছে। এর সঙ্গে জামায়াতের সাংগঠনিক কোনো সম্পর্ক নেই।’
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই খোরশেদ আলম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ অ্যাকশনে নেমেছে। ইতিমধ্যে এজাহারনামীয় প্রধান আসামির সহযোগীসহ ৪ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল পরিকল্পনাকারী মফিদুল মাস্টার ও তাঁর ছেলেসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে। এলাকায় নতুন করে অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
