নিজস্ব প্রতিবেদন: ঢাকার গুলশান-আসন থেকে বারবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য, প্রবীণ রাজনৈতিক অভিভাবক এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সংগঠক এ কে এম রহমতুল্লাহ আর নেই। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুর খবরের পর রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মরহুম এ কে এম রহমতুল্লাহ ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অন্যতম কেন্দ্রীয় নেতা এবং ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি। রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় তিনি তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি তৎকালীন ঢাকা-১১ (বর্তমানে ঢাকা-১১ ও ঢাকা-১২ আসনের অংশ) এবং পরবর্তীতে ঢাকা-১১ (গুলশান-বাড্ডা) আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জাতীয় সংসদে তিনি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনেই নয়, একজন সফল উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী হিসেবেও তাঁর সুখ্যাতি ছিল। তিনি এফবিসিসিআই-এর পরিচালক এবং বাংলাদেশ অ্যাপেক্স ট্যানারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে দেশের চামড়া শিল্পের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। এর বাইরেও তিনি অসংখ্য স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বীরত্বপূর্ণ অবদান ও সাংগঠনিক ভূমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক ও উদার মনের মানুষ হিসেবে দলমত নির্বিশেষে সকলের কাছে তাঁর বিপুল গ্রহণযোগ্যতা ছিল। তাঁর এই মহাপ্রয়াণে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো।
