নিজস্ব প্রতিবেদন: শহীদ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের পটভূমি ও প্রেক্ষাপট তৈরিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ড. শফিকুর রহমানের একজন একান্ত সচিব (পিএস) সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে অত্যন্ত বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন নিহতের ভাই শরীফ ওমর হাদী। একই সাথে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপির কয়েকজন এমপি-মন্ত্রী এবং সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন তথা ড. ইউনূস সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টাও সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
গত মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে নিজের ভেরিফাইড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক) প্রোফাইলে দেওয়া এক দীর্ঘ ও চাঞ্চল্যকর পোস্টে শরীফ ওমর হাদী এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ও অভিযোগ সামনে আনেন।
সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে দাবি করেছিলেন, “বাংলাদেশে খুনের সাথে কারা জড়িত আমি সব জানি, বললে বাংলাদেশ উত্তাল হবে।” তাঁর এই রহস্যময় ও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যের পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে স্ট্যাটাস দেন নিহতের ভাই ওমর হাদী।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টে ওমর হাদী দেশের বর্তমান সরকারপ্রধানের (প্রধানমন্ত্রী) উদ্দেশ্যে একপ্রকার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, হাদী হত্যার সাথে জড়িত সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করুন। হাদী হত্যার বিচার না করলে আপনাকেও এরা হত্যা করবে। যেভাবে আপনার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। হাদী হত্যার বিচার আপনি না করলে, আপনাকে হত্যা করলেও কেউ বিচার করবে না। হাদী হত্যার বিচার বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের জন্য রেড লাইন।”
হত্যাকাণ্ডে জামায়াতে ইসলামীর আমীরের পিএস-এর ভূমিকা নিয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, হাদী হত্যাকাণ্ডের রাজনৈতিক পটভূমি তৈরিতে ওই পিএস নেপথ্যে থেকে কাজ করেছিলেন। সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় কিংবা তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে হাদীকে ঢাকা-০৮ আসন থেকে সম্পূর্ণ সরিয়ে দেওয়ার জন্য তাদের ওপর একটি প্রভাবশালী মহলের পক্ষ থেকে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র কাদা-ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। এর আগে জামায়াতে ইসলামী দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে এমন একটি জনমত তৈরির চেষ্টা করেছিল যে, হাদী হত্যার পিছনে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা (র) সরাসরি জড়িত। কিন্তু হাদির ভাই শরীফ ওমর হাদী যখন এই হত্যাকাণ্ডে ভেতরের ও জোট সরকারের ভেতরের কুশীলবদের নাম নিয়ে সরব হয়েছেন, তখন বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত সরকারের ভূমিকা এবং রহস্যময় নীরবতা তীব্র প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর শরীফ ওমর হাদীর এই ফেসবুক পোস্টটি নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন, কূটনৈতিক মহল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই স্পর্শকাতর ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ।
