ডেস্ক : বাংলাদেশর ৫ই আগস্টের নজিরবিহীন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং পরবর্তীতে দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পর, দেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও সদ্য ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগ আবারও নতুন কৌশলে রাজনৈতিক মাঠে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে দলটির যেকোনো ধরণের অনিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক পুনরুত্থান এবং মাঠ পুনর্দখলের গোপন তৎপরতা কঠোর হস্তে দমন করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’-র একটি বিশেষ আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের চলমান অভ্যন্তরীণ রাজনীতির এই নতুন ও স্পর্শকাতর সমীকরণটি বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে।
আনন্দবাজারের প্রকাশিত তথ্য ও বিশেষ রাজনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, গত কয়েক মাস ধরে ব্যাপক আত্মগোপন, মামলা এবং নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা হেফাজতে যাওয়ার ধাক্কা কাটিয়ে উঠে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড এখন ভেতরে ভেতরে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং ছদ্মবেশে থাকা মাঠপর্যায়ের কর্মীরা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও তৃণমূল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার বার্তা দিচ্ছেন। দলটির ভেরিফাইড প্ল্যাটফর্ম ও গোপন সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কাজের ধীরগতি এবং সাম্প্রতিক কিছু প্রশাসনিক জটিলতাকে পুঁজি করে রাজপথে ফের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে নামার একটি সুদূরপ্রসারী ছক কষছে দলটি।
তবে মাঠের এই গোপন তৎপরতা সরকারের নজরদারির বাইরে নেই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায় ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে রুখে দেওয়া হবে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, আওয়ামী লীগের নামে বা বেনামে যেকোনো ধরণের উস্কানিমূলক জমায়েত, গোপন বৈঠক কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে প্রশাসন আইন ও প্রোটোকল অনুযায়ী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করবে। ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন জেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর বিশেষ নজরদারি এবং চিরুনি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আনন্দবাজারের এই প্রতিবেদন প্রসঙ্গে বলছেন, বাংলাদেশ এখন একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল রূপান্তর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে জনগণের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত আইনি ও সাংবিধানিক সংস্কার, অন্যদিকে ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক শক্তির গোপনে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা এই দুইয়ের মাঝে বর্তমান সরকারের জন্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তারা বদ্ধপরিকর, তবে কোনো নিষিদ্ধ দল বা অপরাধের সাথে যুক্ত গোষ্ঠীর অনৈতিক রাজনৈতিক পুনর্বাসন কিংবা রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ধৃষ্টতা বর্তমান প্রশাসন কোনো অবস্থাতেই বরদাশত করবে না।
