বরিশাল নগরীতে বিএনপি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং দলীয় সাংগঠনিক সভায় অংশ নিতে যাওয়ার পথে মেঘনা নদীতে এক ভয়াবহ ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। ট্রলারে থাকা প্রায় ৩০ জন বিএনপি নেতা-কর্মী নদীতে তলিয়ে গেলেও তাৎক্ষণিক ও জোরালো উদ্ধার তৎপরতার কারণে অলৌকিকভাবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ট্রলারে থাকা প্রত্যেকেই নিরাপদে তীরে উঠতে সক্ষম হওয়ায় একটি বড় ট্র্যাজেডি ও হতাহতের ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
আজ সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে বরিশালের হিজলা উপজেলার বড়জালিয়া ইউনিয়নের মেঘনা নদীর বাউশিয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও দলীয় নেতা-কর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশব্যাপী চলমান বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বরিশালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন ও সাংগঠনিক সভায় যোগ দিতে হিজলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতা-কর্মীরা একটি লঞ্চযোগে বরিশাল নগরীর উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ঘটনাবশত যাত্রাপথে মেঘনা নদীর একটি ডুবোচরে লঞ্চটি আটকে যায়।
লঞ্চটি চরে আটকে যাওয়ার পর সময়মতো কর্মসূচিতে পৌঁছাতে যাত্রীদের নিরাপদে পারাপারের জন্য স্থানীয়ভাবে ট্রলার ও ছোট নৌকার বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়। লঞ্চ থেকে ট্রলারে করে নদীর তীরে নেমে আসার সময় প্রায় ৩০ জন নেতা-কর্মী নিয়ে একটি ট্রলার নদীর কিনারার কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে উল্টে গিয়ে ডুবে যায়। গভীর নদীতে ট্রলারটি ডুবে যাওয়ার সাথে সাথে মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
হিজলা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খোকন দপ্তরি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ট্রলারটি আকস্মিক ডুবে গেলেও স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই আশপাশের মানুষ ও নদী পাড়ের বাসিন্দাদের দ্রুত সহায়তায় বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। ট্রলারে থাকা নেতা-কর্মীদের সবাইকে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে নিরাপদে পানি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় কেউ গুরুতর আহত, নিহত কিংবা নিখোঁজ হননি। নদী থেকে উদ্ধার হওয়ার পর সাময়িক আতঙ্ক কাটিয়ে নেতা-কর্মীরা পরবর্তীতে বিকল্প যানবাহনে করে বরিশালের দলীয় কর্মসূচির উদ্দেশে পুনরায় যাত্রা অব্যাহত রাখেন। সময়মতো উদ্ধার কাজ শুরু হওয়ায় আল্লাহর অশেষ রহমতে একটি নিশ্চিত বড় দুর্ঘটনা থেকে সবাই রক্ষা পেয়েছেন বলে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
