চট্টগ্রামে ২ কোটি টাকা চাঁদা না দেওয়ায় একটি শীর্ষস্থানীয় ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্য দিবালোকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে দুর্ধর্ষ হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। আজ সোমবার দুপুরে নগরের বাকলিয়া অ্যাক্সেস সড়কে অবস্থিত ‘ডিজিটাল ডট নেট’ (ডিডিএন) কার্যালয়ে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দক্ষিণ জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাহমুদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, পুলিশ পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে।
এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ইন্টারপোলের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ নামে পরিচিত সাজ্জাদ আলীর সহযোগী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ‘ডেভিড ইমনের’ অনুসারীরাই এই হামলা চালিয়েছে। ডিডিএনের মালিক আদিল বিন মামুন জানান, গত শনিবার একটি বিদেশি নম্বর থেকে নিজেকে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে হুমকি দিয়ে বলে, “ব্যবসা করতে চাইলে এককালীন ২ কোটি টাকা ও প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে।” পরদিন একটি বাংলাদেশি নম্বর থেকে আরেক ব্যক্তি ফোন করে টাকার তাগাদা দেয়। মামুন টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রবিবার মধ্যরাতে ওই বিদেশি নম্বর থেকে ‘অপেক্ষা করুন, দেখবেন’ লেখা একটি হুমকিমূলক খুদে বার্তা পাঠানো হয়।
কথোপকথনের একপর্যায়ে ইমন সিএমপি কমিশনারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে ডিডিএন মালিককে বলে, “আমার সম্পর্কে সিএমপি কমিশনারকে জিজ্ঞেস করুন। তাকে আমার ফোন নম্বর দেখান। এখন থেকে ব্যবসা আমরা চালাব। আপনি আর ব্যবসা করবেন না। ব্যবসা করতে চাইলে স্মার্ট গ্রুপের মালিক মুজিবের বাসায় কী হয়েছে, সেটা দেখুন।” উল্লেখ্য, এর আগে চকবাজার থানাধীন নগরের চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের মালিক মুজিবুর রহমানের বাসভবনে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবিতে বড় সাজ্জাদের সশস্ত্র সহযোগীরা দুই দফা গুলি বর্ষণ করেছিল। ইমন আরও দাবি করে, তারা পুরো চট্টগ্রামে ইন্টারনেট, গার্মেন্টসসহ সব খাতে তাদের ছেলেদের (অপরাধী চক্র) দেখাশোনার জন্য এভাবে টাকা তুলছে।
ডিডিএনের বিক্রয় বিভাগের প্রধান মো. রবিউল হোসেন রাকিব জানান, আজ দুপুরে ধারালো অস্ত্রধারী ৩০ থেকে ৩৫ জন মাস্ক পরিহিত যুবক হঠাৎ কার্যালয়ে ঢুকে আসবাবপত্র ও কম্পিউটার ভাঙচুর শুরু করে। তারা ক্যাশ থেকে নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান সরঞ্জাম লুট করে মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে চম্পট দেয়। এই ঘটনায় ডিডিএনের ম্যানেজার শামসুদ্দোহা মিনহাজ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।
কে এই ডেভিড ইমন? পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ওরফে ডেভিড ইমন ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগরের মো. মুসার ছেলে। সে ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকার বহুল আলোচিত জোড়া খুন এবং একই বছরের ২৩ মে রাতে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ অন্তত সাতটি গুরুতর ফৌজদারি মামলার এজাহারনামীয় আসামি। পুলিশ জানায়, পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের হয়ে চট্টগ্রামে অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া দুই প্রধান ব্যক্তির একজন এই মোবারক হোসেন। এর আগে ‘ছোট সাজ্জাদ’ ওরফে সাজ্জাদ হোসেন এই গ্রুপের নেতৃত্ব দিত। তবে ছোট সাজ্জাদ বর্তমানে কারাগারে থাকায় মোবারক হোসেন ও মোহাম্মদ রায়হান আলম (যার বিরুদ্ধে ৮টি মামলা রয়েছে) যৌথভাবে গ্রুপটির নেতৃত্ব নিয়ে পুরো চট্টগ্রামে নতুন করে চাঁদাবাজি ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।
