নিজস্ব প্রতিনিধি : নরসিংদী জেলার মির্জাপুর থানার রায়পুরা গ্রামে একটি মহিলা মাদ্রাসা ভাঙচুর করেছে স্থানীয় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসার কিছু কথিত হুজুরের বিরুদ্ধে ছোট ছোট মেয়েদের যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠছিল। সর্বশেষ ঘটনায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে অচেতন করে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে খোদ মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় উত্তেজিত হয়ে স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও গ্রামবাসীরা মাদ্রাসাটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালান।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, রায়পুরা গ্রামের ওই মহিলা মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন ধরেই কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশু ও কিশোরীদের লালসার শিকার বানানোর গুঞ্জন ও অভিযোগ ছিল। গ্রামবাসীরা বলছেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আড়ালে পরপর এমন জঘন্য ঘটনায় তারা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভে ফেটে পড়ছিলেন। সর্বশেষ এক ১০ বছরের শিশুকে অচেতন করে ধর্ষণের পৈশাচিক ঘটনাটি সামনে আসার পর গ্রামবাসীরা আর নীরব থাকতে পারেননি। ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জড়ো হন এবং একপর্যায়ে সেখানে ভাঙচুর চালান।
এলাকার একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে খবরের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ জমে ছিল এবং শিশুটির সাথে ঘটে যাওয়া সর্বশেষ ঘটনাটি ছিল তাদের সহ্যশক্তির ‘শেষ সীমা’। নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো এই ঘৃণ্য অপরাধের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের এমন রণমুখী প্রতিক্রিয়া পুরো এলাকায় তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, স্থানীয় প্রশাসন যদি আগে থেকে ওঠা অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে সময়মতো ব্যবস্থা নিত, তাহলে আজ এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি ও একটি শিশুর ওপর এই নির্যাতন এড়ানো যেত।
বর্তমানে পুরো রায়পুরা এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের হয়েছে কি না তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে এই জঘন্য ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিক সমাজ। সেই সাথে শিশুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই ধরণের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির জোরালো দাবি উঠেছে।
