জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদে (জকসু) দুই প্রধান ছাত্রসংগঠন ছাত্রশিবির এবং ছাত্রদলের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ এখন প্রকাশ্যে। জকসুর শীর্ষ পদগুলোতে শিবিরের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও একাধিপত্য থাকায় ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা নিজেদের চরমভাবে কোণঠাসা বলে দাবি করছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের এই প্ল্যাটফর্মটি এখন জাতীয় রাজনীতির মহড়া এবং আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ ছাত্রদল থেকে নির্বাচিত জকসুর একাধিক ছাত্রনেতার।
চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জকসু নির্বাচনে মোট ২১ টি পদের মধ্যে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ১৬ টি, ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল ৪ টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ১ টি পদে জয় লাভ করে। কিন্তু নির্বাচনের তিন মাস অতিবাহিত হলেও জকসুতে প্রায়শই শিবির ও ছাত্রদল থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়হীনতা সামনে আসে।
ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত জকসুর পরিবহন সম্পাদক মাহিদ হোসেন এবং কার্যনির্বাহী সদস্য সাদমান সাম্য ছাত্র সংসদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, জকসুর শীর্ষ তিন নেতা বা ‘সুপার থ্রি’ সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণের চেয়ে নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নেই বেশি ব্যস্ত।
জকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সাদমান সাম্য জানান, তারেক রহমান বা বিএনপির অবস্থান নিয়ে কিংবা জাতীয় যেকোনো ইস্যুতে বিবৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে শিবিরের সদস্যরা নিজেদের ১৬ জনের সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে পোল বা ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছেন। সেখানে ভিন্নমতের কোনো তোয়াক্কা বা গঠনমূলক আলোচনা করা হয় না।
ছাত্রদলের প্যানেল থেকে নির্বাচিত জকসুর পরিবহন সম্পাদক মাহিদ হোসেনের আশঙ্কা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মন থেকে ছাত্র সংসদের প্রতি আগ্রহ ও আস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করতেই শীর্ষ নেতারা ইচ্ছাকৃতভাবে জকসুকে একটি হাসির পাত্রে পরিণত করার চেষ্টা করছেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ ছাত্র সংসদ নির্বাচন না চায়।
তবে ছাত্রদলের এসব অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন জকসু ভিপি ও জবি শিবির সভাপতি মোঃ রিয়াজুল ইসলাম। একনায়কতন্ত্রের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানান, জকসুর যেকোনো বিবৃতি বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সকল সদস্যের সাথে গ্রুপে এবং মিটিংয়ে আলোচনা করা হয়। ২১ জন সদস্যের সংসদে দু-একজনের ভিন্নমত থাকাটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় খুবই স্বাভাবিক। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমেই ছাত্র সংসদ ম্যান্ডেট পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করা তাদের নৈতিক দায়িত্ব।
রিয়াজুল আরও বলেন, মাহিদের মতো সদস্যদের উচিত শুধু বাইরে অভিযোগ না করে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দেওয়া, যা পেলে তারা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন।
Comments
Previous Articleলাশ ছাড়াই ৩০ লাখ টাকা লোপাট, ব্রেন টিউমারের রোগীকে ‘শহীদ’
Next Article জাতীয় জাদুঘর থেকে বঙ্গবন্ধু কর্নার অপসারণ
সংশ্লিষ্ট খবর
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
