নিজস্ব প্রতিনিধি : পুলিশের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের টাকা ভাগ-বাটোয়ারা, চাঁদাবাজি এবং ভয় দেখিয়ে ‘মামলা বাণিজ্য’ করার তীব্র সমালোচনা ও বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, স্থানীয় পর্যায়ের অনেক বিএনপি নেতা পুলিশের সঙ্গে সরাসরি যোগসাজশ রক্ষা করছেন এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে মামলায় কাদের আসামি করা হবে কিংবা কীভাবে করা হবে, তা নির্ধারণ করছেন।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশো এবং পরবর্তীতে ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ইন্টারন্যাশনাল জুরিস্টস ফোরাম ফর হিউম্যান রাইটসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব অভিযোগ তোলেন। রুমিন ফারহানা বলেন, “লোকাল বিএনপি লিডাররা পুলিশের সঙ্গে টাকা-পয়সা ভাগ-বাটোয়ারা করে বাণিজ্য করার জন্য মানুষকে ফোন দিয়ে ভয় দেখায়। তারা হুমকি দিয়ে বলে—টাকা না দিলে কিন্তু মামলায় নাম ঢুকিয়ে দেব, এত টাকা দিতে হবে।” অন্যায়কারীদের হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, “আপনি আজ যা করে যাবেন, তার কয়েক গুণ অন্যায় আপনার ওপরেই একদিন ফিরে আসবে।” ।
বক্তব্যে দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট ও একদলীয় কাঠামোর সমালোচনা করে এই সংসদ সদস্য বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে একদলীয় শাসন দেখেছে এবং ৫ আগস্টের পরও সেই একই ধারাবাহিকতা চলছে। তাঁর ভাষ্য—
“তখন বিএনপি-জামায়াতকে খেলার মাঠের বাইরে রেখে এককভাবে সংসদকে সাজানো হয়েছিল। আর এখন আওয়ামী লীগ এবং বাম দলগুলোকে বাইরে রেখে আরেকভাবে সংসদ চালানো হচ্ছে। দিস ইজ অল দ্য সেম। আমি আগেও যা দেখেছি একদলীয় সংসদ, এখনও আমি সেই একদলীয় সংসদই দেখছি।”
সংসদে স্বাস্থ্য খাতের ব্যর্থতা ও সরকারের লুকোচুরির তীব্র সমালোচনা করে রুমিন ফারহানা তাঁর সাম্প্রতিক এক সংসদীয় বিতর্কের উদাহরণ টানেন। দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যু নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তোলায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন তাঁকে আতঙ্ক সৃষ্টি না করতে এবং কথা বলতে নিরুৎসাহিত করেছিলেন উল্লেখ করে তিনি ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলেন, “আমি তো জানতাম আমি ৩০০ জন সংসদ সদস্যের সামনে কথা বলছি, ৩০০ জন হামের রোগীর সামনে তো কথা বলছি না। সরকার যখন বালুর মধ্যে মুখ গুঁজে মনে করে কেউ দেখে না, কেউ বোঝে না এই বাটপারিগুলো দেখতে খুব মজা লাগে।” বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তথ্য গোপন করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা সম্ভব নয় বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
একই সঙ্গে দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর নির্বাহী বিভাগের নগ্ন হস্তক্ষেপ ও কারাগারগুলোর ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দি রাখার তীব্র সমালোচনা করেন রুমিন ফারহানা। তিনি জানান, রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্যই থাকে কী করে বিচার বিভাগের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা যায়, যার কারণে কোনো বিচারক সাহসী হয়ে জামিন দিলে পরদিনই তাঁর বিচারিক এখতিয়ার পরিবর্তন করে দেওয়া হয়। দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার ও বিচার ব্যবস্থার সুরক্ষায় ইন্টারন্যাশনাল জুরিস্টস ফোরামের মতো স্বাধীন সংগঠনগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার জন্য আদালত পাড়া ও রাজনীতির মাঠের সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।