নিজস্ব প্রতিনিধি : সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চরম নিগ্রহ থেকে বাঁচতে এখন দেশে ‘রাষ্ট্রপতি’ হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি। তাঁর মতে, চতুর্মুখী মব ও আইনি জটিলতার হাত থেকে বাঁচতে ড. ইউনূসের এখন একটি সুরক্ষিত আইনি ‘প্রোটেকশন’ বা আশ্রয় প্রয়োজন, আর সেটিই তিনি খুঁজছেন রাষ্ট্রপতির পদের মধ্যে। ।
আজ বুধবার নিজের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিশেষ ভিডিও বিশ্লেষণে গোলাম মাওলা রনি ড. ইউনূসের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। রনি বলেন, মাত্র ১৮ মাস রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষবিন্দু ও রাজনীতির সংস্পর্শে এসে ড. ইউনূস পুরোপুরি ব্যর্থ ও ইমেজ সংকটে পড়েছেন। তাঁর ভাষায়—
“রাজনীতির সংস্পর্শে এসে ড. ইউনূস এতটা অপমানিত, এতটা অবদমিত ও নিগৃহীত হয়েছেন, যাকে বলা যায়—তিনি রাজনৈতিকভাবে পঁচে-গলে গান্ধা হয়ে গেছেন। সারা দুনিয়াতেই তিনি এখন চরম ধাক্কাধাক্কি ও নিগ্রহের শিকার।”
গোলাম মাওলা রনি দাবি করেন, বাংলাদেশে যাঁরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটিয়ে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা ক্ষমতার পরিবর্তন করেছিল, তাঁদের মধ্যে যদি ড. ইউনূস থেকে থাকেন তবে তিনি এখন আন্তর্জাতিক মহলের কাছে ‘খরচের খাতায়’ পড়ে গেছেন। ড. ইউনূসের আর নতুন করে ইউরোপ বা আমেরিকার কাছে আশ্রয় পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং আমেরিকা নিজেই তাঁকে আর সেই আগের মতো খাতির বা সুযোগ দেবে না।
ভিডিওতে রনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ড. ইউনূসকে নিয়ে যেভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে এবং ক্রমাগত ‘মব জাস্টিস’ ও গণ-আক্রোশের ভয় দেখাচ্ছে, তাতে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে। এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে বঙ্গভবনের মতো একটি নিচ্ছিদ্র সুরক্ষিত আবাসগৃহ এবং রাষ্ট্রপতির মতো একটি সাংবিধানিক আইনি রক্ষাকবচ তাঁর জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। আর এই রাজনৈতিক প্রোটেকশন নিশ্চিত করতেই ড. ইউনূস পর্দার আড়ালে মাথার ওপর ‘বিএনপি’-র মতো একটি বৃহৎ ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের সমর্থন বা ছাদ পাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
