সাইফুর রহমান
ইউনুসের পুরো সময়জুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহভাবে খারাপ ছিল। এর কারণ অনেকে প্রকাশ্যে লেখেননি। আমি কয়েকবার লিখেছিলাম— থানায় ওসি নিজের চেয়ারে পর্যন্ত বসতে পারতেন না ইউনুসের নিয়োগকর্তা কথিত সমন্বয়কদের কারণে। তারা থানায় গিয়ে নির্দেশ দিত— কাকে ধরতে হবে, কাকে ছেড়ে দিতে হবে।
পাশাপাশি ছিল ইউনুসের জারি করা ইনডেমনিটি। বর্তমান বিএনপি-জামায়াত সরকারও সেই ইনডেমনিটি বাতিল করেনি। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করা হয়নি। গণভবন ও সংসদ ভবন থেকে লুট হওয়া এসএসএফের অত্যাধুনিক অস্ত্রগুলোও এখন ইউনুসের মব বাহিনী এবং ৫ আগস্টের পর মুক্তি পাওয়া সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের হাতে রয়েছে।
সচিবালয়গুলো চলেছে টোকাইদের নির্দেশে। যেসব উপদেষ্টাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তারা মূলত সরকারি সুবিধা ভোগ করেছে পিকনিক মুডে এবং ব্যাপক দুর্নীতি করেছে।
একটি দেশের শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হলে সরকারকে কঠোর হতে হয়। দেশের উগ্রবাদীদের দমন করতে যতটুকু কঠোর হওয়া প্রয়োজন, শেখ হাসিনা ঠিক ততটুকুই কঠোর ছিলেন। তাদের সবাইকে মুক্ত করে দিয়েছে ইউনুস। এ কারণেই এখন বিএনপি কোনোভাবেই দেশকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না। কারণ, তারা এক পা সামনে এগোলেই এনসিপি ও জামায়াতের বিভিন্ন গোষ্ঠীর হুমকিতে তিন কদম পিছিয়ে পড়ে। বিএনপির সেই সৎ সাহস আছে বলেও মনে হচ্ছে না।
দেশে হামের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য শুরুতেই তারেক ও তার স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্য না বলে লীগের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেছিলেন। তাতে লাভ হয়নি। কারণ, এর আগে ১৮ মাস দেশ পরিচালনায় ছিল ইউনুস। পরবর্তীতে তারা মিনমিন করে সত্য স্বীকার করলেও, দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত বা বিচারের উদ্যোগ নেয়নি।
মানুষের সন্তান মারা যাচ্ছে, এবং পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইউনুস যে ভয়ংকর ক্ষতি করে গেছে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস বিএনপির আছে— এমনটা কেউ বিশ্বাস করে না। বিশ্বাস করার মতো কিছু বিএনপি এখনো দেখাতে পারেনি।
সামনে আরও কিছু রোগের ভয়াবহতা দেখা দেবে। মৃত্যুর মিছিল শুধু শিশুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এই দেশ একসময় একটি বৈশ্বিক মহামারি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছিল। টিকা কার্যক্রমের সফলতায় বিশ্বের কাছে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। সেই দেশের আজকের ভয়াবহ অবস্থার জন্য শুধু ইউনুস দায়ী নয়; তাকে ৫ বছর বা ১০ বছর ক্ষমতায় রাখতে চেয়েছিল যারা, তারাও সমানভাবে দায়ী।
যে শিশুরা পৃথিবীর সব জটিলতা থেকে মুক্তি নিয়ে চলে গেছে— তাদের কী দোষ ছিল? সংস্কারের নামে মুলা ঝুলিয়ে, কথিত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসার অজুহাতে বিদেশ ভ্রমণ করানো হয়েছে। বিএসএমএমইউ ও বার্ন ইনস্টিটিউটের একাধিক ফ্লোর মাসের পর মাস দখল করে হোটেলের মতো ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতি বেলায় ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল থেকে খাবার এনে খাওয়ানোর ব্যবস্থাও করা হয়েছে। অথচ শিশুদের জীবনরক্ষাকারী টিকা আমদানি করা হয়নি।
সরকারি অর্থ ব্যয় হয়েছে জুলাই যোদ্ধাদের ফ্ল্যাট নির্মাণে, গণভবনে জাদুঘর নির্মাণে এবং জেলায় জেলায় ‘জুলাই স্তম্ভ’ বসানোর নামে। এভাবে লাখ লাখ কোটি টাকা পকেটে ভরেছে উপদেষ্টা ও ছাত্রনেতা নামের এসব টোকাই।
এসব একদিন সামনে আসবেই। সেদিন ইউনুস ও তার ভক্তদের বিরুদ্ধে গণধিক্কার উঠবে। থু থু ছিটানো হবে তাদের গায়ে। শত শত শিশুর প্রাণের মূল্য কেউ এত সহজে ভুলে যাবে না। একটি দেশকে চিরতরে ধ্বংস করার যে প্রচেষ্টা চলছে, সেসবকে সমর্থন দেওয়া মানুষদের ২১ মাস পরে এসে অবুঝ বলা যায় না।
মনে রাখা হবে শিশু গণহত্যার জন্য দায়ীদের নাম। মনে রাখা হবে— কারা চুপ থেকে এই সময়টাকে এড়িয়ে গেছে।
