নিজস্ব প্রতিনিধি :
স্মার্টফোনের গ্যালারিতে থাকা হাসিমাখা ভিডিওগুলো এখন কেবলই স্মৃতি। বড় হলে ছেলেকে দেখাবেন বলে জান্নাতুল ফেরদৌস (২০) পরম আদরে যে মুহূর্তগুলো বন্দি করেছিলেন, সেগুলোই এখন তাঁর বুকফাটা কান্নার কারণ। হামের উপসর্গ নিয়ে দীর্ঘ ২২ দিন হাসপাতালের বারান্দায় যমে-মানুষে লড়াই করার পর অবশেষে হার মেনেছে ৪ মাস বয়সী শিশু আবদুল্লাহ আল সাফওয়ান।
চট্টগ্রাম নগরের একটি নাস্তার দোকানের কারিগর আবদুল্লাহ মো. রাসেল ও জান্নাতুল ফেরদৌস দম্পতির কোল আলো করে এসেছিল সাফওয়ান। অভাবের সংসারে শিশুটিই ছিল সব সুখের উৎস। কিন্তু গত ১৯ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া জ্বর ও কাশির পর সারা শরীরে লাল ফুসকুড়ি বা হামের লক্ষণ দেখা দিলে ফিকে হতে থাকে সব আনন্দ।
পরিবারের সদস্যরা জানান, আর্থিক সংকটের কারণে স্থানীয় হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশুটিকে নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে হয়েছে তাঁদের। ২১ এপ্রিল রাতে মুমূর্ষু অবস্থায় সাফওয়ানকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। একদিকে সন্তানের জীবন বাঁচানোর আকুতি, অন্যদিকে চিকিৎসার পাহাড়সম খরচ। পরিচিতদের মাধ্যমে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ও মানুষের কাছে হাত পেতে প্রায় ৮০ হাজার টাকা ধার করে চিকিৎসার চেষ্টা চালিয়েছিলেন এই দম্পতি।
সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ৪ মাস ১০ দিন বয়সী শিশুটি। ওই রাতেই চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার চরতী ইউনিয়নে নিজ গ্রামে তাকে দাফন করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, জেলাজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ২৩৩ জন ভর্তি থাকলেও সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। সাফওয়ানের মতো আরও অনেক শিশু এখন এই ঘাতক রোগের সাথে লড়াই করছে।
