“সবাই থানায় গিয়ে বলেছিল ও ছোট ছেলে, সামনে টেস্ট পরীক্ষা, ওকে ছেড়ে দিন। কিন্তু ওসির এক কথা—ছাড়া যাবে না।” গত বছর পুলিশের হাতে আটক হওয়ার বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা এভাবেই বর্ণনা করছিল ১৬ বছর বয়সী কিশোর কাওসার হোসেন (ছদ্মনাম)। রাজনীতির নিষ্ঠুর মারপ্যাঁচে পড়ে যার শিক্ষাজীবন এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
কাওসারের বাবা স্থানীয় পর্যায়ের নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় বাবা ও ছেলে—উভয়ের নামই সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জড়ানো হয়। গ্রেপ্তারের ভয়ে তারা দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। এসএসসি-র টেস্ট পরীক্ষা দেওয়ার আশায় কাওসার নানু বাড়িতে আশ্রয় নিলেও প্রথম পরীক্ষার আগের রাতেই পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে চার মাসেরও বেশি সময় কারাগারে থাকার পর এসএসসি পরীক্ষার ঠিক একদিন আগে মুক্তি পায় কাওসার। তবে ততদিনে তার শিক্ষাবর্ষের মূল্যবান একটি বছর হারিয়ে গেছে। সহপাঠীরা যখন পরীক্ষাকেন্দ্রে কলম চালাচ্ছে, তখন কাওসারকে থাকতে হচ্ছে সবকিছুর বাইরে। জেলখানায় বসে আবেদন করেও নিয়মের বেড়াজালে সে ফরম পূরণ করতে পারেনি।
সম্প্রতি ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক স্কুল শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। বিশেষ ক্ষমতা আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মতো কঠোর ধারায় মামলা হওয়ায় এই কিশোররা দীর্ঘ সময় জামিন পাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের মানবাধিকারকর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞরা।
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ওমর ফারুক জানান, আইন অনুযায়ী নারী, শিশু বা অসুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অজামিনযোগ্য মামলাতেও জামিন বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। ১৬ বছরের একজন কিশোর কোনো মিছিলে গেলেও তাকে মাসের পর মাস কারাগারে রাখা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও মানবিক ও সংবেদনশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
