নিজস্ব প্রতিনিধি :
আজ ৩ মে, শহীদ জননী জাহানারা ইমামের জন্মদিন। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষা এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের এই মহান নেত্রীকে দেশবাসী আজ গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছে। ১৯২৯ সালের এই দিনে তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর সাহসী অবস্থান ও ন্যায়ের প্রতি অবিচল অঙ্গীকার আজও বাঙালির হৃদয়ে অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।
জাহানারা ইমাম একাধারে ছিলেন শিক্ষক, লেখক ও প্রাজ্ঞ সমাজচিন্তক। তাঁর রচিত কালজয়ী গ্রন্থ “একাত্তরের দিনগুলি” বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের এক অনন্য ও জীবন্ত দলিল হিসেবে আজও পাঠকদের কাছে সমাদৃত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে তিনি শুধু সাহিত্যচর্চায় সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে আজীবন কাজ করে গেছেন।
স্বাধীনতার পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে তাঁর নেতৃত্বে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা এক সময় বিশাল গণআন্দোলনে রূপ নেয়। তিনি “একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি” গঠনের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিকে সংগঠিত রূপ দেন এবং আমৃত্যু এই আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে কাজ করেন। তাঁর এই অনবদ্য অবদানের কারণেই তিনি দেশবাসীর কাছে “শহীদ জননী” হিসেবে শ্রদ্ধার আসনে আসীন।
১৯৯৪ সালে জাহানারা ইমাম পরলোকগমন করেন, কিন্তু তাঁর আদর্শ ও সংগ্রামের চেতনা আজও অম্লান। তিনি বিশ্বাস করতেন, যুদ্ধাপরাধ ও অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই একটি জাতির প্রকৃত মুক্তি সম্ভব। আজ তাঁর জন্মদিনে সর্বস্তরের মানুষ এই মহান নারীকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে, যিনি ছিলেন ইতিহাসের অন্যতম এক সাহসী কারিগর।
