আগামী ১৫, ১৬ ও ১৭ মে ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য ‘বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বইমেলা’কে সামনে রেখে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। প্রবাসে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে এ মেলার গুরুত্ব তুলে ধরতেই আয়োজকরা এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। একাত্তরের প্রহরী ফাউন্ডেশন-যুক্তরাষ্ট্র এই বইমেলার আয়োজক সংগঠন। আয়োজকরা জানিয়েছেন, নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড সিটির ইভাঙেল ক্রিশ্চিয়ান সেন্টারে আগামী ১৫ মে থেকে শুরু হবে তিন দিনব্যাপী এই বইমেলা।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বইমেলা-২০২৬-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বীরমুক্তিযোদ্ধা ড. নূরুন নবী, আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, লেখক, সংগীতশিল্পী তাজুল ইমাম, সদস্যসচিব স্বীকৃতি বড়ুয়া। তারা বলেন, ‘২০২৫ সালে শুরু হওয়া বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বইমেলা মুক্তিযুদ্ধ এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চিরভাস্বর চেতনাকে সারা বিশ্বের পরবর্তী বাঙালি প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’ মেলার প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন মার্কিন কবি ও অনুবাদক ক্যারোলিন রাইট।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের বইমেলা হবে আরও বিস্তৃত ও বৈচিত্র্যময়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের প্রকাশনা সংস্থা, লেখক, কবি ও সাহিত্যিকরা এতে অংশ নেবেন। মেলায় নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, লেখক-পাঠক আড্ডা, কবিতা পাঠ, আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বইমেলাকে ঘিরে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য বিশেষ কর্মসূচিও রাখা হয়েছে। শিশু-কিশোরদের জন্য আলাদা কর্নার, গল্প বলা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং সাহিত্যভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রম থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, “বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বাংলা ভাষার ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এই বইমেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রবাসে থেকেও আমরা আমাদের শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখতে চাই।”
এ সময় তারা আরও জানান, বইমেলায় বিভিন্ন দেশের খ্যাতিমান লেখক ও গবেষকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসী লেখকদের সৃষ্টিশীল কাজ তুলে ধরার জন্য বিশেষ সেশন রাখা হবে।
বাঙালি জাতির ইতিহাস, স্বাধীনতার সংগ্রাম আর সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। তাই তাঁর নামে বইমেলার আয়োজন কেবল একটি আনুষ্ঠানিক নামকরণ নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে একটি বড় বার্তা ও উদ্দেশ্য।
শেখ মুজিবর রহমান, যিনি বাঙালি জাতির পিতা, তিনি আজীবন শিক্ষার গুরুত্ব, সংস্কৃতি চর্চা এবং মুক্ত চিন্তার সমাজ গঠনের ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে মানুষ জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে নিজেদের আলোকিত করবে এবং একটি মানবিক সমাজ গড়ে তুলবে।
এই কারণে বঙ্গবন্ধুর নামে বইমেলার আয়োজন করা মানে তাঁর সেই স্বপ্ন ও আদর্শকে সামনে রেখে বই, জ্ঞান ও সংস্কৃতিকে উদযাপন করা। বইমেলা শুধু বই কেনাবেচার জায়গা নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক মিলনমেলা, যেখানে লেখক, পাঠক, গবেষক এবং প্রবাসী বাঙালিরা একত্রিত হন।
বিশেষ করে প্রবাসে এই ধরনের আয়োজন বাঙালি পরিচয়কে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়। বঙ্গবন্ধুর নাম যুক্ত থাকায় এটি আরও একটি প্রতীকী গুরুত্ব পায়—যা স্বাধীনতার ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন এবং বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে মানুষকে আবারও সংযুক্ত করে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বঙ্গবন্ধুর নামে বইমেলা আয়োজন মানে শুধু একটি ইভেন্ট নয়, বরং এটি একটি আদর্শ, একটি ইতিহাস এবং একটি জাতিগত চেতনার ধারাবাহিকতা।
সভায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—সংগঠক ও আবৃত্তিশিল্পী মিথুন আহমেদ, গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম ব্যক্তিত্ব সৈয়দ জাকির আহমেদ রনি, সাংবাদিক পিনাকী তালুকদার, মো: আব্দুল হামিদ, জাতিসংঘের সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি ড. এম. এনামুল হক, জনপ্রিয় উপস্থাপক স্বাধীন মজুমদার, আবৃত্তি শিল্পী মুনমুন সাহা, ফারহানা ইলিয়াস তুলি, জিনাত নবী, সুতপা মন্ডল, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক হুসনে আরা, ফাহমিদা ইয়াসমীন এ্যানি, মনিরা আকন্জ্ঞি, রওশন আরা নীপা, কণ্ঠশিল্পী তাহমিনা শহীদ, দীলিপ কুমার মোদক, প্রগ্রেসিভ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বাচ্চু, হিরো চৌধূরী, সাজ্জাদ হোসেন সবুজ, লিটু আনাম, সম্মিলিত বর্ষবরণ ও মঙ্গল শোভাযাত্রা উদযাপন পর্ষদের সদস্য সচিব মুজাহিদ আনসারী, সহ-সভাপতি মুহম্মদ ফজলুর রহমান, ফোবানা সংগঠনের চেয়ারম্যান ও বই মেলার যুগ্ম আহ্বায়ক জাকিরিয়া চৌধূরী, ইয়াকুব আলী মিঠু, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বইমেলা ২০২৬ উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব স্বীকৃতি বড়ুয়া, সংগঠনের সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবৃত্তিকার গোপন সাহা, কবি ফকির ইলিয়াস, সংগঠক গোপাল সান্যাল, সংগঠনের প্রচার সম্পাদক আসলাম খান এবং প্রজ্ঞা নিউজের সম্পাদক ও প্রকাশক উত্তম কুমার সাহা সহ নিউ ইয়র্কের সকল সংবাদকর্মী।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে আয়োজকরা নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে বইমেলায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণে এবারের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বইমেলা প্রবাসে বাংলা সাহিত্যচর্চার এক মিলনমেলায় পরিণত হবে। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বইমেলার মিডিয়া পার্টনার হিসেবে আছে চ্যানেল ফোরটিন।
