নিজস্ব প্রতিনিধি :
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সদ্য সাবেক উপাচার্য সালেহ্ হাসান নকীবের ৫১৭ দিনের দায়িত্ব পালনকালে ব্যাপক নিয়োগ অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণের অভিযোগ উঠেছে. অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া এই উপাচার্য ১৫টি সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে অন্তত ৪৭৮ জনকে নিয়োগ দিয়েছেন, যার মধ্যে ১৫৪ জন শিক্ষক, ৩১৫ জন কর্মচারী এবং কর্মকর্তা ও চিকিৎসক রয়েছেন. বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এত অল্প সময়ে এত বেশি জনবল নিয়োগের নজির আর নেই.
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটেছে উর্দু বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে, যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইবার স্বর্ণপদক জয়ী এবং স্নাতক-স্নাতকোত্তর উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়া এ সালামকে মেধাতালিকায় দ্বিতীয় হওয়া সত্ত্বেও নিয়োগ দেওয়া হয়নি. এর পরিবর্তে মেধাতালিকার প্রথম, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান অধিকারীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে. এই অনিয়ম দেখে নিয়োগ বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সদস্য অধ্যাপক মো. ইস্রাফিল ফলপত্রে সই করেননি, তবুও উপাচার্য এই নিয়োগ বৈধ করেন.
উপাচার্যের বিরুদ্ধে নিজ শ্বশুর অধ্যাপক ড. একেএম আজহারুল ইসলামকে ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, যা নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে. এছাড়া, এইচএসসি পাস করা দুজনকে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা পদে এবং আইসিটি সেন্টারে স্নাতক ফল প্রকাশের আগেই একজনকে প্রোগ্রামার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে. বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ‘পৃষ্ঠপোষক’ পরিচয়ে একজনকে বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই কর্মকর্তা হিসেবে অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়.
নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে নাট্যকলা বিভাগেও, যেখানে সভাপতি ও প্রার্থীর মধ্যে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত ফোনালাপের সত্যতা ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হলেও তিনজনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে. ভেটেরিনারি বিভাগে একটি পদের বিপরীতে ১০ জন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি এবং চারুকলায় ডিনের ভাইকে সুবিধা দিতে মাস্টার্স ডিগ্রির শর্ত পরিবর্তনের মতো ঘটনাও ঘটেছে. বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩১৫ জন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রেও যোগ্যতা নয়, বরং একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের আনুগত্য প্রাধান্য পেয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে.
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষকদের দাবি, উপাচার্য নকীব বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘নিয়োগের কারখানা’ বানিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এবং জামায়াত-শিবিরপন্থীদের গণহারে নিয়োগ দিয়েছেন. বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম স্বীকার করেছেন যে, অনেক নিয়োগে নিয়মনীতি মানা হয়নি এবং মেধার বদলে ব্যক্তিগত প্রভাব কাজ করেছে. তিনি জানিয়েছেন, এসব অনিয়মের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে.
