নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের রাজনীতিতে গত ১৮ মাসব্যাপী ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা, অর্থনীতি এবং জাতীয় ঐতিহ্যের ওপর এই শাসনামলের প্রভাব নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন মহলে আলোচনার ঝড় বইছে। বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ বদরুল আহসানের এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে এই সময়ের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রতিষ্ঠিত ‘গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র’ পরিকল্পিতভাবে দখল করা হয়েছে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের দিকে। উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পদচ্যুত করে এই অপারেশন চালানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া, শাসনের শুরুতেই ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত বিপুল অংকের কর মওকুফ করার বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক নৈতিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ইউনূস শাসনামলে সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে বাংলাদেশের অস্তিত্বের ভিত্তিমূলে। তথাকথিত ‘মব কালচার’ বা জনতার সহিংসতার আড়ালে ধ্বংস করা হয়েছে। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক বাসভবন। মুজিবনগরে বাংলাদেশের প্রথম সরকারের স্মৃতিসৌধ।
একইসাথে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ, শোক দিবস এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের মতো জাতীয় ঐতিহ্যের ওপর প্রশাসনিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যা জাতীয় চেতনায় গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে।
এই ১৮ মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রায় ৩ হাজার পুলিশ সদস্য সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’-এ পরিণত করার মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও মুক্তিযুদ্ধপন্থীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। বর্তমানে বহু রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, বিচারক এবং সংস্কৃতিকর্মী কারাগারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানা গেছে।
ভারতের সাথে ঐতিহাসিক সম্পর্ক শিথিল করে পাকিস্তানের সাথে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের আগমুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি বিতর্কিত বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরের অভিযোগ উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় এলেও পূর্ববর্তী শাসনের রেখে যাওয়া সংকটগুলো কাটিয়ে ওঠা এখনো সম্ভব হয়নি। নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার ফিরিয়ে আনতে ইউনূস সরকারের এই ১৮ মাসের কর্মকাণ্ডের একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হওয়া অপরিহার্য।
ইতিহাস সাক্ষী দেয়, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতাই একটি রাষ্ট্রকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারে। বর্তমান সরকারের জন্য এই সংকট কাটিয়ে ওঠা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
