নিজস্ব প্রতিনিধি :
ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, কেবল উপদেষ্টা হিসেবেই নয়, তাঁর পুরো জীবনচক্রেই রয়েছে জালিয়াতি ও নীতি বদলের অসংখ্য উদাহরণ। এমনকি নিজের আসল নাম ‘নজরুল ইসলাম’ পরিবর্তন করে তিনি ‘আসিফ নজরুল’ হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ছাত্রজীবনে মাঝারি মানের শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে আসিফ নজরুল তৎকালীন শিক্ষক রাজনীতি ও এরশাদুল বারীর আশীর্বাদকে কাজে লাগান। শিক্ষক হওয়ার পর তিনি তাঁর গুরুর বিরুদ্ধেই অবস্থান নেন। সাংবাদিকতা জীবনে শাহরিয়ার কবিরের সহায়তায় চাকরি পেলেও পরবর্তীকালে তাঁর বিরুদ্ধেই কাজ করেছেন; বর্তমানে শাহরিয়ার কবির কারাবন্দি থাকলেও আসিফ নজরুল তাঁর সহায়তায় এগিয়ে আসেননি।
উপদেষ্টা থাকাকালীন নিবন্ধন অধিদপ্তরের বদলি বাণিজ্যে আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে তুঘলকি কাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১৮ মাসে ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে ২৮২ জনকেই বদলি করা হয়েছে, যাদের অনেকে চার মাসে চারবার পর্যন্ত বদলি হয়েছেন। ঘুষের বিনিময়ে বদলি এবং টাকা না পেয়ে আদেশ স্থগিত করার মতো অসংখ্য প্রমাণ এখন সামনে আসছে।
নিয়োগ বাণিজ্যেও আসিফ নজরুল রেকর্ড ভেঙেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁর সময়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে ৩৩ জন ডিএজি ও ২৩০ জন এএজি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা নজিরবিহীন। এছাড়া ঢাকার দুটি আদালতে যেখানে অল্প কয়েকজন আইন কর্মকর্তা প্রয়োজন, সেখানে তিনি ৮৪ জন ও ৬১ জন করে বিপুল সংখ্যক সরকারি কৌঁসুলি নিয়োগ দিয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় করেছেন।
আসিফ নজরুলের ব্যক্তিগত জীবনও প্রতারণার জালে বন্দি বলে অভিযোগ রয়েছে। পিএইচডি শেষে প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচীকে বিয়ে করেন, কিন্তু পরে হুমায়ূন আহমেদ কন্যা শীলা আহমেদের সঙ্গে পরকীয়া ও বিয়েতে জড়ান। এছাড়া ইস্কাটনে মেয়ের নামে বাড়ি এবং ২৬ লাখ ভারতীয়র বাংলাদেশে চাকরি করার মতো বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে।
জনসাধারণের দাবি, আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও আসিফ মাহমুদসহ ইউনূস সরকারের গত ১৮ মাসের দুর্নীতির তদন্তে একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করা হোক। এসব অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে ৩০ এপ্রিল তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
