আজকের নগরজীবনে পড়াশোনা, চাকরি বা ব্যবসার প্রয়োজনে অচেনা মানুষের সঙ্গে ফ্ল্যাট বা রুম শেয়ারিং করা একটি সাধারণ বিষয়। বিশেষ করে বিদেশে পড়তে যাওয়া ছাত্রদের জন্য ইউনিভার্সিটির আবাসন সংকট বা উচ্চ ব্যয়ের কারণে এটি অনেকটা বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায়। তবে এই জীবনযাত্রায় রুমমেট হিসেবে সঠিক মানুষ বেছে না নিলে তা শুধু অস্বস্তিকর নয়, বরং জীবনঘাতীও হতে পারে।
সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি ছাত্র জাহিদ আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির নৃশংস হত্যাকাণ্ড আমাদের এই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে। অভিযোগ উঠেছে, লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহ অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের খুন করে মরদেহ সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করেছে। এই ভয়াবহ ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন কারও সঙ্গে থাকার আগে সাবধানতা অবলম্বন করা অপরিহার্য। যদিও শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়া অসম্ভব, তবে সচেতনতা আপনার ঝুঁকি কমাতে পারে।
নিচে নতুন রুমমেট নির্বাচনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খেয়াল করার মতো ১০টি বিষয় তুলে ধরা হলো:
১. পরিচয় ও আর্থিক স্থিতিশীলতা যাচাই: সম্ভাব্য রুমমেটের নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎস নিশ্চিত হওয়া জরুরি। ভাড়া ও বিল পরিশোধে তার স্বচ্ছতা না থাকলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের আর্থিক ও মানসিক চাপের সৃষ্টি হতে পারে।
২. পূর্ব অভিজ্ঞতা ও ক্রিমিনাল রেকর্ড: তিনি আগে কোথায় ছিলেন এবং আগের রুমমেটের সাথে সম্পর্ক কেমন ছিল তা জানার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে তার পরিবার সম্পর্কে খোঁজ নিন। যুক্তরাষ্ট্রে লিমন-বৃষ্টির ঘটনার প্রেক্ষাপটে এখনকার সময়ে কারও অপরাধমূলক কাজের ইতিহাস (Criminal Record) চেক করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
৩. জীবনযাত্রার সামঞ্জস্য: আপনার ঘুমের সময়, পরিচ্ছন্নতার বোধ এবং শব্দ সহ্য করার ক্ষমতার সাথে রুমমেটের স্বভাবের মিল আছে কি না তা শুরুতেই নিশ্চিত করুন। অমিল থাকলে দীর্ঘমেয়াদে ঝামেলা অনিবার্য।
৪. ব্যক্তিগত অভ্যাস: মদ্যপান, ধূমপান বা অন্য কোনো বিশেষ অভ্যাস আপনার স্বাচ্ছন্দ্যের পরিপন্থী কি না তা খোলামেলাভাবে জেনে নিন।
৫. প্রশ্নের উত্তরে অসঙ্গতি: স্বাভাবিক প্রশ্নে রুমমেট যদি উত্তর এড়িয়ে যান বা বারবার তথ্য পরিবর্তন করেন, তবে এটি সতর্ক সংকেত। তথ্যের অসঙ্গতি থাকলে তাকে এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
৬. সিদ্ধান্ত নিতে চাপ সৃষ্টি করা: যদি কেউ যাচাই-বাছাইয়ের সময় না দিয়ে “আজই উঠতে হবে” বা “এখনই টাকা দিন” বলে চাপ সৃষ্টি করে, তবে সতর্ক থাকুন। একজন সৎ মানুষ সাধারণত যাচাইয়ের সুযোগ দিতে আপত্তি করেন না।
৭. ব্যক্তিগত সীমারেখার প্রতি সম্মান: আপনার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও পরিসরকে তিনি কতটা সম্মান করছেন তা কথা বলার ধরণ দেখেই বোঝার চেষ্টা করুন।
৮. মেজাজ ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ: অল্পতেই রেগে যাওয়া বা উগ্র আচরণ ভবিষ্যতের বড় ঝুঁকির পূর্বলক্ষণ হতে পারে। নিরাপদ সহাবস্থানের জন্য শান্ত ও যুক্তিবাদী মানুষের সঙ্গ প্রয়োজন।
৯. অন্যদের সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি: যদি তিনি সবসময় তার আগের রুমমেট বা পরিচিতদের দোষারোপ করেন, তবে তার নিজের আচরণে সমস্যা থাকার সম্ভাবনা প্রবল। বিষয়টি একপাক্ষিক নাও হতে পারে।
১০. লিখিত চুক্তি ও নিয়ম: সবশেষে ভাড়া, বিল, অতিথি এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে একটি লিখিত চুক্তি থাকা ভালো। এটি উভয় পক্ষের দায়িত্ব স্পষ্ট করে এবং ভুল বোঝাবুঝি কমায়।
সূত্র: থট ক্যাটালগ, ভেরি ওয়েল মাইন্ড
