নিজস্ব প্রতিনিধি :
নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষক পরিষদের মধ্যাহ্নভোজের সময় হামলা, শারীরিক হেনস্তা, হত্যার হুমকি এবং অধ্যক্ষের কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে কলেজ শাখা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীদের বিচারের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করেছে কলেজ শিক্ষক পরিষদ।
গতকাল বুধবার দুপুরে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী এই হামলা চালায় বলে ভুক্তভোগী শিক্ষক ও কলেজ প্রশাসন অভিযোগ করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ সস্ত্রীক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিতে কলেজে এলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও অন্য শিক্ষকরা একসঙ্গে দুপুরের খাবার খেতে বসেন। সেই সময় ছাত্রদল নেতারা এসে আসবাবপত্র ভাঙচুর শুরু করে এবং শিক্ষকদের গালিগালাজ ও হুমকি দিতে থাকে।
হামলার এক পর্যায়ে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনশাদুর রহমানের শার্টের বোতাম ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে ১০ মিনিটের মধ্যে মেরে ড্রেনে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর সানা উল্যাহ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “খাবারের প্লেট থেকে তুলে দেওয়ার চেয়ে লজ্জার আর কী হতে পারে। প্রয়োজনে কৃষি কাজ করব, তবুও এমন অপমান সয়ে শিক্ষকতা করব না”।
শিক্ষক পরিষদ জরুরি সভা ডেকে হামলাকারীদের ছাত্রত্ব বাতিল, থানায় মামলা দায়ের এবং বিচার না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো এই ঘটনাকে ‘জঘন্য’ আখ্যা দিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। সুধারাম মডেল থানার ওসি জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
