নিজস্ব প্রতিনিধি :
ঢাকার কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদের একটি মাদ্রাসায় শক্তিশালী বোমা তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে একযোগে হামলার ভয়াবহ পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের। বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আতঙ্কিত করার পাশাপাশি দেশে উগ্র শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তারা এই আস্তানা গেড়েছিল। সম্প্রতি গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর ‘উম্মুল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’ নামে ওই প্রতিষ্ঠানে বোমা তৈরির সময় হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটলে জঙ্গিদের বড় ধরনের নাশকতার ছক ভেস্তে যায়। ওই বিস্ফোরণে ভবনের দেয়াল উড়ে যায় এবং পাশের একটি গ্যারেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর তিন থেকে চার দিন পর একই স্থানে আবারও বিস্ফোরণে একজন আহত হন।
ঘটনার পর ধারাবাহিক অভিযানে মূল অভিযুক্ত ও বোমা তৈরির কারিগর আল আমিন শেখসহ মোট ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতরা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ’ (জেএমজেবি)-এর সক্রিয় সদস্য। এরা বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহের কাজও করে আসছিল।
চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, মূল হোতা আল আমিন শেখ এর আগেও অন্তত পাঁচ থেকে সাতবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ ৭টি মামলা রয়েছে। জামিনে বেরিয়ে প্রতিবারই তিনি পুনরায় জঙ্গি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন। মাদ্রাসার আড়ালে বোমা তৈরির আস্তানা গড়ে তোলায় স্থানীয়দের মনে কোনো সন্দেহ তৈরি হয়নি।
তদন্তকারী সংস্থা এটিইউ জানিয়েছে, ২০২২ সাল থেকে মুফতি হারুন নামের এক ব্যক্তি বাড়িটি ভাড়া নিয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা করছিলেন। মূলত সাধারণ ধর্মভীরু মানুষকে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ করা এবং জিহাদি কর্মকাণ্ডের প্রশিক্ষণ দেওয়াই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। বিস্ফোরণের আলামত সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে, যার প্রতিবেদন পাওয়ার পর তদন্ত আরও গতি পাবে।
এদিকে বিস্ফোরণের পর থেকেই বাড়িটি ‘ক্রাইম সিন’ হিসেবে ঘিরে রেখেছে পুলিশ। বাড়ির মালিক পারভীন বেগম জানান, মাদ্রাসা ভেবে ভাড়া দিলেও এমন জঙ্গি তৎপরতার কথা জেনে তারা বিস্মিত। দীর্ঘদিন বাড়িটি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে থাকায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন বাড়ির মালিকের পরিবার।
