নিজস্ব প্রতিনিধি : যশোরের চৌগাছায় রাজনৈতিক বিরোধের জেরে জুয়েল আহমেদ রানা (৩৫) নামে এক যুবককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের মুক্তদাহ মোড়ে এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটে।
নিহত জুয়েল আহমেদ রানা উপজেলার মুক্তদাহ গ্রামের ওয়াদুদ খন্দকারের (ওদুদ) ছেলে। এই হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে সকালে মুক্তদাহ মোড়ে জুয়েল রানার সঙ্গে প্রতিপক্ষের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে একই গ্রামের ইউসুফ ও কাশেম এবং স্থানীয় নজরম মেম্বারের ছেলে বাবু ও সুমনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা জুয়েলকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। নৃশংসতার একপর্যায়ে পিটিয়ে তাঁর দুই পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা জুয়েল রানাকে উদ্ধার করে প্রথমে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে সেখানে নিয়ে পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী মায়া বেগম অভিযোগ করে জানান, সকালে তিনি মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় তাঁর স্বামী স্থানীয় মোড়ে চা খেতে যান। হামলাকারীরা তখন তাঁকে (মায়া বেগম) একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে তাঁর স্বামীর ওপর এই ভয়াবহ ও নৃশংস হামলা চালায়।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোবাশ্বের হোসেন বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই জুয়েল রানার মৃত্যু হয়েছে। নিহত যুবকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এই নৃশংস ঘটনার নেপথ্যের কারণ এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
