নিজস্ব প্রতিনিধি : যশোরের চৌগাছা উপজেলায় রাজনৈতিক বিরোধের জেরে জুয়েল রানা (৪০) নামে এক যুবলীগ নেতাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের মুক্তদাহ গ্রামের মোড়ে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহত জুয়েল রানা মুক্তদাহ গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদের ছেলে এবং পাতিবিলা ইউনিয়ন যুবলীগের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। হামলার সময় স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন তার স্ত্রী মায়া খাতুন (৩৫)। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে থাকায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, পাতিবিলা ইউনিয়নটি মূলত বিএনপি-অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জুয়েল রানা ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য থাকাকালীন স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মারধর ও মামলা দিয়ে হয়রানি করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সম্প্রতি এলাকায় ফিরে আসেন।
স্থানীয়দের দাবি, গত বুধবার রাতে পাতিবিলা ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি ও ইউপি সদস্য নজরুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় বিএনপি নেতার কর্মকাণ্ড নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন জুয়েল রানা। এর জের ধরেই বৃহস্পতিবার সকালে মুক্তদাহ মোড়ে নজরুল ইসলাম, তার ছেলে বাবুসহ ৬-৭ জন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে জুয়েলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলায় জুয়েল রানা গুরুতর জখম হলে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মারা যান।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে নিহতের স্ত্রী মায়া খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তার স্বামীকে চোখের সামনে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে। তিনি আরও দাবি করেন, এলাকায় চলমান চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় তার স্বামীকে প্রাণ দিতে হয়েছে। মায়া খাতুন এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে পাতিবিলা ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি নজরুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার হ্যান্ডসেটটি বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে, এই বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
পাতিবিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জুয়েলের বিরুদ্ধে অতীতে বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি করার বিস্তর অভিযোগ ছিল এবং সেই পুরনো ক্ষোভ থেকেই এই ঘটনা ঘটতে পারে।
চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ জানান, প্রাথমিক তদন্তে রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহত জুয়েলের বিরুদ্ধে থানায় মারামারিসহ পূর্বের ৩টি মামলা রয়েছে। এই ঘটনায় নতুন হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতিমধ্যে কয়েকজনকে থানায় আনা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত মূল অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
