নিজস্ব প্রতিনিধি :
দেশে আবারও জঙ্গি তৎপরতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে কিনা এমন প্রশ্ন এখন জনমনে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জাতীয় সংসদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা জানিয়ে সতর্কতামূলক চিঠি পাঠানোর পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘদিন বড় ধরনের কোনো নাশকতা না ঘটলেও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, দেশে জঙ্গিবাদ পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। বরং বর্তমানে জঙ্গিরা নীরবে সংগঠিত হয়ে এবং বিভিন্ন কৌশলে ‘স্লিপার সেল’ হিসেবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে তথ্যে উঠে এসেছে।
গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইশতিয়াক আহম্মেদ সামীকে গ্রেপ্তারের পর চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। ইশতিয়াকের সঙ্গে সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা, যা নিয়ে গভীর তদন্ত চলছে।
সম্প্রতি কেরানীগঞ্জের একটি মাদ্রাসায় পরপর দুটি বিস্ফোরণের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। ওই ঘটনায় বোমা তৈরির কারিগর আল আমিন শেখসহ মোট ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করে এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ), যার ফলে একটি বড় হামলার পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, জাতীয় সংসদ, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর স্থাপনা এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে বোমা হামলা বা ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা হতে পারে। এমনকি বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগার লক্ষ্য করেও নাশকতার পরিকল্পনা থাকতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ইশতিয়াক সামীর সঙ্গে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার সম্ভাব্য যোগাযোগের সূত্র পাওয়া গেছে। বিষয়টি বর্তমানে নিবিড়ভাবে তদন্তাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা পাওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ডিএমপির প্রটেকশন বিভাগ বর্তমানে সার্বিক নিরাপত্তা ও নজরদারি সমন্বয় করছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো ডিজিটাল র্যাডিক্যালাইজেশন বা অনলাইন প্রচার। জঙ্গিরা এখন এনক্রিপ্টেড বা গোপন অ্যাপ ব্যবহার করে যোগাযোগ করছে, যা মোকাবিলা করতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
