নিজস্ব প্রতিবেদক
কিছু কিছু কলঙ্কের দাগ শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও মুছে যায় না। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দি এক নারী ও তার সাত মাসের অনগত শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাটি তেমনই এক নারকীয় অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছে। এই বীভৎস হত্যাকাণ্ডের বিচার যদি আদায় না হয়, তবে এর অভিশাপ থেকে সমাজ মুক্ত হতে পারবে কি না—সেই প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।
গত সোমবার রাত ৮টার দিকে মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের গুনটিয়া গ্রামে লৌহজং নদীর পাড় থেকে এই মা ও নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার দিকে এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে তারা উৎস খুঁজতে গিয়ে নদীর পাড়ে মাটির ওপরে নারীর চুল দেখতে পান। কুকুরের আনাগোনা এবং মাটির নিচে বস্তার অংশ দেখে পুলিশকে খবর দিলে বেরিয়ে আসে এক চরম নৃশংসতার চিত্র।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ধারণা, মৃত ওই নারী সাত মাসের গর্ভবতী ছিলেন। তাকে ধর্ষণ ও হত্যার চরম পাশবিকতার সময় অথবা পরে তার সন্তান প্রসব হয়ে যায়। ঘাতকরা এতটাই পাষণ্ড ছিল যে, মৃত মায়ের সাথে সেই সাত মাসের অনগত শিশুটিকেও বস্তাবন্দি করে মাটিচাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—মায়ের আর্তনাদ যদি ঘাতকদের মন না গলায়, তবে ওই নিষ্পাপ শিশুর অভিশাপ থেকে কি তারা বাঁচতে পারবে?
ঘটনার ছয় দিন পার হয়ে গেলেও পুলিশ এখনো ওই হতভাগ্য মা ও নবজাতকের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এখনো হাতে না আসায় মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিচয় না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত মা ও শিশুকে মির্জাপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে ‘বেওয়ারিশ’ হিসেবে দাফন করা হয়েছে। আপনজন ছাড়াই তারা মাটিচাপা থেকে কবরের মাটিতে আশ্রয় পেয়েছে।
মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জাবেদ পারভেজ জানান, “মাটি খুঁড়ে ওই নারীকে বের করে আনার সময় তাঁর সঙ্গে এক নবজাতকের লাশ পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁর মৃত্যুর সময় বা মৃত্যু যন্ত্রণার মধ্যেই নবজাতক প্রসব হয়। আমরা পরিচয় শনাক্তের আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।”
এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিক সমাজ এই ঘটনাকে ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত’কেও হার মানানো বর্বরতা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। মির্জাপুরবাসী যদি এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের বিচার আদায় করতে না পারে, তবে এটি একটি মানবিক বিপর্যয় হিসেবে ইতিহাসে লেখা থাকবে। পরিচয়হীন এই দুই লাশের জন্য বিচারের দাবিতে এখন উত্তাল হওয়ার অপেক্ষায় টাঙ্গাইল।
