নিজস্ব প্রতিবেদক
“ছাত্রদল করে সবচেয়ে ডিসেন্ট ছেলেপেলে”—এক সময় সংগঠনটির বড় ভাইদের মুখে এই কথাটিই ছিল কর্মীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। পরিপাটি হয়ে চলা, মার্জিত আচরণ আর আদর্শিক রাজনীতিই ছিল ছাত্রদলের মূল স্টাইল। কিন্তু মিটফোর্ডের ঘটনায় যে পাশবিক উল্লাস দেখা গেছে, তার সঙ্গে কি শহীদ জিয়ার আদর্শ বা সাবেক ছাত্রদল কর্মীদের চরিত্রের কোনো মিল আছে? এই প্রশ্ন এখন খোদ সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান ত্যাগী কর্মীদের মনে।
সাবেক ছাত্রদল কর্মী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে একজন সাবেক সংবাদকর্মী ও বর্তমানে সাংবাদিকতায় নিয়োজিত ব্যক্তি বলেন, “ছাত্রজীবনে একটু আউলা-ঝাউলা স্টাইলে চলায় বড় ভাইয়েরা বকতেন। পরিপাটি হয়ে চলতে বলতেন। আমার সার্কেলে অন্তত এক ডজন কেন্দ্রীয় নেতা আছেন যাদের সঙ্গে নিয়মিত আড্ডা দেই। এদের কেউ এখন শীর্ষ নেতা, কেউ হেভিওয়েট ক্যান্ডিডেট। ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার পরেও কখনোই এদের উগ্র হতে দেখিনি। এখনো দেখা হলে সেই পুরনো আন্তরিকতায় কোলাকুলি করি, মশকরা করি।”
মিটফোর্ডের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে যাদের নাম এসেছে এবং যাদের উল্লাস করতে দেখা গেছে, তাদের নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “এই প্রতিবেদনে যাদের দেখছি, এরা কোথা থেকে গজালো? এদের সঙ্গে তো আমার সাবেক সহযোদ্ধাদের চরিত্রের কোনো মিল পাই না। এদের কর্মকাণ্ডের সাথে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার আদর্শের কোনো লেশমাত্র নেই।”
তিনি আরও যোগ করেন, এমন পাশবিক উল্লাস ছাত্রদলের কোনো আদর্শিক কর্মী করতে পারে—এটা মেনে নেওয়া অসম্ভব। সম্ভবত সংগঠনের বর্তমান সুস্থ ধারার অনেক নেতাও এটা মানতে পারছেন না, কিন্তু দলের বৃহত্তর স্বার্থে হয়তো অনেকে চুপ করে আছেন।
মিটফোর্ডের ঘটনার পর বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনগুলো ইতিমধ্যে কিছু কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে সাবেক কর্মীদের প্রত্যাশা আরও বেশি। তাদের মতে, এইসব কলঙ্কিত ব্যক্তিদের দল থেকে স্থায়ীভাবে দূর করে একটি পরিচ্ছন্ন সংগঠন গড়া এখন সময়ের দাবি। শহীদ জিয়ার সেই ‘উৎপাদনমুখী’ ও ‘ডিসেন্ট’ রাজনীতির ধারায় ছাত্রদলকে ফিরিয়ে আনাই হোক বর্তমান নেতৃত্বের প্রধান লক্ষ্য।
যথাযথ আইনি ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই কেবল এই কলঙ্ক দূর করা সম্ভব এবং এর মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের কাছে দলের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার হবে।
