নিজস্ব প্রতিনিধি
ছাত্রত্ব শেষ হলেও অবৈধভাবে আবাসিক হলে অবস্থান করার অভিযোগ উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ছাত্রশিবিরের তিন নেতার বিরুদ্ধে।
তারা হলেন–বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক ও আল কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. জাকারিয়া, সাবেক আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাসান আল বান্না এবং শাখা ছাত্রশিবিরের কলেজ সম্পাদক ও আল কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম।
অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রত্ব শেষ হলেও তারা নিয়ম ভেঙে হলের কক্ষ দখল করে আছেন। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সাধারণ শিক্ষার্থী জানান, এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের অনেকেই হলে থাকার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবাসিক হল ত্যাগ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শাখা ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকারিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলের ১০১ নম্বর কক্ষে থাকেন। তবে অনেক আগেই তার ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে। এছাড়া শিবিরের সাবেক আন্তর্জাতিক সম্পাদক হাসান আল বান্না ক্যাম্পাস ছাড়লেও লালন শাহ হলে একটি সিট তার দখলেই আছে বলে জানা গেছে। এছাড়া শাখা ছাত্রশিবিরের কলেজ সম্পাদক আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ রয়েছে। জানা যায়, আরিফুল ইসলাম শাহ আজিজ হলে অবৈধভাবে থাকেন। অথচ তার ছাত্রত্ব অনেক আগে শেষ হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকারিয়া বলেন, ‘হলে আমার কিছু জিনিস আছে। সেগুলো নিয়ে আসা হয়নি। তবে কয়েকদিনের মধ্যে ওগুলো নিয়ে আসব। আমি মেসে চলে এসেছি।’
ছাত্রশিবিরের সাবেক আন্তর্জাতিক সম্পাদক হাসান আল বান্না বলেন, ‘আমি হল ছেড়ে দিয়েছি। আমার ব্যাপারে যে অভিযোগ উঠেছে এটা সঠিক নয়। আমি যে সিটে থাকতাম ওটা একজনের বৈধ সিট। আমি কিছুদিন সেখানে ছিলাম।’
ছাত্রশিবিরের কলেজ সম্পাদক আরিফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে শাহ আজিজুর রহমান হলের হল প্রভোস্ট প্রফেসর ড. এ টি এম মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি ওদের সিট অফিসিয়ালি শূন্য ঘোষণা করেছি। তবে ওরা কিছুদিন বেশি ছিল। যদিও ওরা সবসময় হলে থাকে না। জাকারিয়া আমাকে মেসেজ দিয়ে বলেছে সে মেসে চলে গেছে। নতুন ছেলে উঠানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
লালন শাহ হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. গাজী আরিফুজ্জামান বলেন, ‘হাসান আল বান্না এই হলের আবাসিক ছাত্র ছিল। আমি আসার পর থেকে তার কোনো আবাসিক সিট ছিল না। তবে সে অন্য কারও লিগ্যাল সিটে থাকত কি না বা তার দখলে কোনো সিট ছিল কি না, তা আমার জানা নেই। এখন আর সে থাকে না।’
