নিজস্ব প্রতিনিধি
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন নাহার হল ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি এবং ‘স্লোগান ৭১’-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ তাসনিম আফরোজ ইমির মুক্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘নিপীড়নবিরোধী নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরিচিত মুখ ও নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী নাহিদুল ইসলাম বর্তমান পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে আইনি প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “আমি জানতে চাই, সংবিধানের কোথায়, কত ধারায় বা কত অনুচ্ছেদে লেখা আছে যে ‘জয় বাংলা’ বলা যাবে না কিংবা ৭ মার্চের ভাষণ চালানো যাবে না? যদি কোনো আইনে এটি নিষিদ্ধ থাকে, তবে আমি আমার বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেব।”
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আর যদি কোনো আইনে এটি নিষিদ্ধ না থাকে, তবে আগামীকালই ইমি আপাকে মুক্তি দিতে হবে। আমরা রাজু ভাস্কর্যে দাঁড়িয়েই তাকে গ্রহণ করব এবং নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে আমাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখব।”
বক্তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে ইমিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জড়ানো হয়েছে। নিপীড়নবিরোধী নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, ইমি দীর্ঘকাল ধরে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার ছিলেন। তার মতো একজন সাবেক ছাত্র প্রতিনিধিকে এভাবে কারাগারে পাঠানো মুক্তবুদ্ধি ও গণতান্ত্রিক চর্চার অন্তরায়। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে ইমিসহ সকল রাজবন্দির মুক্তি এবং হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ রাজধানীর শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরবর্তীতে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ইমির আটকের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ঢাবির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবারের এই সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ নাগরিকরা অংশ নিয়ে ইমির নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সংহতি প্রকাশ করেন।
