নিজস্ব প্রতিনিধি
যশোর সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নে এক সংখ্যালঘু ব্যক্তির ওপর হামলা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ব্যক্তি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি যশোর পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত অজিত ঘোষের ছেলে নিখিল ঘোষ অভিযোগ করে বলেন, ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি লিয়াকত আলী এবং তার ভাই বিএনপি সদস্য হাকিম আলী দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থক হওয়ায় গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রাণভয়ে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।
প্রায় সাত মাস আত্মগোপনে থাকার পর জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় বিএনপি নেতারা তাকে নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে এলাকায় ফিরিয়ে আনেন বলে জানান নিখিল ঘোষ। আশ্বাস পেয়ে তিনি এলাকায় ফিরে আসেন এবং নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে কাজ করেন। তবে নির্বাচনের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে পুনরায় তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাওয়া শুরু হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নিখিল ঘোষের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৪ এপ্রিল সকালে দুধ বিক্রির জন্য বাজারে যাওয়ার পথে লিয়াকত আলী তার পথরোধ করেন। এ সময় টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে লিয়াকত দোকান থেকে হাতুড়ি এনে তাকে বেধড়ক মারধর করেন, এতে তার ডান হাত ভেঙে যায়। এ সময় হাকিম আলীও তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আহত নিখিল ঘোষ ও তার স্ত্রী জানান, তারা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং তাদের জীবননাশের আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানা যশোরর অফিসার ইনচার্জ মাসুম খান বলেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
