নিজস্ব প্রতিনিধি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিবিরের সম্প্রতি প্রকাশিত কমিটির আইটি সম্পাদক হাসানুল বান্নাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা আব্দুল কাদের। তার দাবি, শান্ত স্বভাবের আড়ালে বান্না মূলত অনলাইনে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা, নারী শিক্ষার্থীদের বুলিং এবং অপপ্রচারের এক পরিকল্পিত নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছেন।
আব্দুল কাদেরের অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাবি শিবিরের আইটি সম্পাদক হিসেবে হাসানুল বান্নার প্রধান কাজ হলো একাধিক ফেসবুক পেজ তদারকি করা। এর মধ্যে রয়েছে DU Insiders, ডাকসু মিম পোস্টিং, ডিপার্টমেন্ট অফ এক্সপোজ এবং রাজনৈতিক মিমসমগ্র-এর মতো প্ল্যাটফর্ম। এসব পেজ থেকে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো এবং নারী শিক্ষার্থীদের অনলাইনে বুলিং করে তাদের রাজনীতিতে নিরুৎসাহিত করার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। আব্দুল কাদের বলেন, “বাইরে থেকে দেখলে বোঝার উপায় নেই যে এই ছেলে এমন অমানুষী কাজকারবার করতে পারে।”
হাসানুল বান্না শুধু শিবিরের আইটি সম্পাদকই নন, তিনি বিজয় একাত্তর হল সংসদের ভিপি এবং তৎকালীন হল শাখা শিবিরের পদ্মা ব্লকের সভাপতি ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তার সক্রিয় ভূমিকা কোথাও দেখা না গেলেও ৫ আগস্টের পর তিনি হলের একচ্ছত্র ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠেন। ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ পরিচয়ে তিনি ও তার অনুসারীরা হলের সিট নিয়ন্ত্রণ, নিরীহ শিক্ষার্থীদের মামলার ভয় দেখিয়ে হল থেকে বিতাড়িত করা এবং নিজ দলীয় অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়ার মতো কাজ করেছেন বলে স্ট্যাটাসে উল্লেখ করা হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, ৫ আগস্টের আগে হাসানুল বান্না ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথেও ঘনিষ্ঠ ছিলেন। পদপদবি না থাকলেও তিনি ছাত্রলীগের মাদ্রাসা ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক জহিরের ঘনিষ্ঠজন এবং কুখ্যাত সন্ত্রাসী আবু ইউনুসের গ্রুপের কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তৎকালীন সময়েও ‘বড় ভাইদের’ আশীর্বাদে হলের সিট বণ্টনে তার বিশেষ প্রভাব ছিল বলে দাবি করেছেন তার ব্যাচমেটরা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আব্দুল কাদের তার পোস্টে উল্লেখ করেন, শিবির প্রায়ই তৃণমূলের অতি উৎসাহী নেতাকর্মীদের ওপর দায় চাপিয়ে এসব কর্মকাণ্ড অস্বীকার করে। কিন্তু বান্নাদের মতো দায়িত্বশীলদের দিয়ে পরিকল্পিতভাবে এমন নোংরা রাজনীতির চর্চা এখন দেশবাসীর কাছে পরিষ্কার।
সাদিক কায়েমের সাথে হাসানুল বান্নার হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, রাজনীতির পট পরিবর্তনের পর নব্য এই ‘ক্ষমতাধর’ চক্রটি আবারও হলের পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।
