নিজস্ব প্রতিবেদক
বর্তমান সরকারী দল বিএনপির আমলেও হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার মুরিয়াউক বাজার বর্তমানে চরম আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, যে সরকারই ক্ষমতায় আসে, অপরাধী ও সন্ত্রাসীরা সেই রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করে নেয়। বর্তমানে তা তীব্র আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অনুযায়ী, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সানা উল্লাহ, আনোয়ার হোসেন, কামরুল ইসলাম, ফাহাদ, আহমেদ ও রুবেলসহ একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র বেআইনি কার্যকলাপের মাধ্যমে বাজারে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। তারা নিয়মিতভাবে ব্যবসায়ীদের ওপর নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও হয়রানি চালায়। এমনকি প্রকাশ্যে দিবালোকে এক ব্যবসায়ীকে মারধর করে তার দোকান দখল করে নেয়। পরবর্তীতে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। গোপন সূত্রের মাধ্যমে পাওয়া খবরে বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই ব্যবসায়ী প্রাণভয়ে দেশত্যাগে বাধ্য হন এবং বিদেশে আশ্রয় নেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কিছুদিন সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আবারও একই চক্রের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দ্বিগুণ আকার সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি দল বিএনপির কিছু উশৃঙ্খল নেতার সহযোগিতায় সাদুদ্দিন, সানা উল্লাহ, কামরুল ইসলাম, ফাহাদ, আহমেদ, রুবেল ও শাহীন আহমেদের নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী গ্যাং পুনরায় চাঁদাবাজি ও দখল কার্যক্রম শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে দুইবার সাদুদ্দিন, সানা উল্লাহ, আনোয়ার হোসেন, কামরুল ইসলাম, ফাহাদ, আহমেদ, রুবেল ও শাহীন বাহিনী অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন সশস্ত্র সহযোগী নিয়ে বাজারে আকস্মিক হামলা চালায়।
এর মধ্যে গত ১৩ এপ্রিল তারা পরিকল্পিতভাবে একাধিক দোকানে ভাঙচুর ও দখল অভিযান পরিচালনা করে। এসময় একটি দোকানে অবস্থানরত সুমি বেগমকে মারধর করে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয় এবং দোকানটি দখল করে নেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, দোকানের কর্মচারীকেও বের করে দিয়ে দোকানটি সম্পূর্ণভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় তারা। গত 20 এপ্রিল একইভাবে আরও দুটি দোকান জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দখল হওয়া দোকানগুলোর মধ্যে একটি আবুল হোসেনের এবং অন্য দুটি যথাক্রমে রহমত আলী ও কুদ্দুস মিয়ার বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা অত্যন্ত সংঘবদ্ধ ও পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই দখল অভিযান পরিচালনা করে, যার ফলে আশপাশের কেউ প্রতিরোধ করার সাহস পায়নি।
ঘটনার পর বাজার কমিটির সদস্যরা দ্রুত পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পুলিশের এই নীরব ভূমিকায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী বলেন,“আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। দিনের আলোতে এভাবে সন্ত্রাসীরা দোকান দখল করে নেয়, অথচ কেউ কিছু করতে পারে না—এটা খুবই ভয়ংকর।”
বর্তমানে পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ বা সহিংসতা ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাদুদ্দিন ও শাহীন আহমেদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা উল্টো হত্যার হুমকি দেয়।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত দখলদার ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে শাস্তির আওতায় আনা হোক। কেন এভাবে মানুষকে হয়রানি নির্যাতন না করা হয় সেই আহ্বান জানানো হয়
