নিজস্ব প্রতিনিধি : হামের প্রাদুর্ভাবে শিশু মৃত্যুর মিছিলের মধ্যেই দেশে মরণব্যাধি জলাতঙ্কের টিকার মজুত নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে টিকার তীব্র সংকট থাকলেও স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন দাবি করেছেন দেশে কোনো টিকারই ঘাটতি নেই।
বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা, মুন্সীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় জলাতঙ্কের টিকার জন্য হাহাকার চলছে। দরিদ্র রোগীরা হাসপাতাল থেকে টিকা না পেয়ে বাইরের ফার্মেসি থেকে চড়া দামে তা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, যা অনেকের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে।
বিশেষ করে কুকুরের কামড়ে তাৎক্ষণিক সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আরআইজি (RIG) ভ্যাকসিনের সরবরাহ সরকারিভাবে প্রায় বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালগুলোকে নিজস্ব তহবিল থেকে টিকা কিনতে বলা হলেও বাজেটের অভাবে তারা তা সংগ্রহ করতে পারছে না।
মুন্সীগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জানিয়েছেন, টিকার পরিমাণ অত্যন্ত কম হওয়ায় তারা এখন ‘রেশনিং’ করছেন। শুধুমাত্র অতি জরুরি ও দরিদ্র রোগীদের বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হচ্ছে, বাকিদের কিনে আনার পরামর্শ দিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ঢাকার বাইরের উপজেলাগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ, সেখানে কোনো টিকাই পাওয়া যাচ্ছে না। ভুক্তভোগীদের সাভার বা ঢাকার দূরবর্তী এলাকা থেকে এসে মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ভিড় করতে হচ্ছে, যেখানে কেবল শতভাগ সরবরাহ নিশ্চিত আছে।
এদিকে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি বা ইপিআই-এর কেন্দ্রীয় গুদামেও জরুরি ‘বাফার স্টক’ না থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, নিয়ম অনুযায়ী তিন মাসের বাড়তি মজুত রাখার কথা থাকলেও বর্তমানে তা শূন্যের কোঠায় নেমেছে।
যক্ষ্মা, পোলিও, নিউমোনিয়া ও টাইফয়েডসহ ইপিআই-এর অধীনে থাকা ৯টি টিকার মধ্যে বেশ কয়েকটির মজুত এখন তলানিতে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, মজুত না থাকা মানেই অন্য কোনো সংক্রামক রোগের মহামারি ছড়িয়ে পড়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হওয়া।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের এমন আশঙ্কার বিপরীতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশে অন্তত ছয় মাসের টিকার মজুত রয়েছে। মাঠ পর্যায়ের সংকটের কথা সাংবাদিকরা তুললে তিনি তা সরাসরি নাকচ করে দিয়ে বলেন, কেউ টিকা না পেয়ে ফেরত যাচ্ছে না।
