নিজস্ব প্রতিনিধি :
প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞার শিকল ভেঙে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির জানান দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। গত ২৪ ঘণ্টায় নগরের তিনটি ভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে রাজপথে ছাত্রলীগকে সক্রিয় রেখেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। গ্রেফতার ও দমন-পীড়নের ভয় উপেক্ষা করে ছাত্রলীগের এই পদচারণা সাধারণ কর্মীদের মাঝে নতুন করে উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
শুক্রবার সকালে এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের ব্যানারে একটি বিশাল মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি মেডিকেল সেন্টার এলাকা থেকে শুরু হয়ে গোলপাহাড় মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই সফলভাবে এই কর্মসূচি সম্পন্ন করে নেতাকর্মীরা প্রমাণ করেছেন যে, ছাত্রলীগ এখনো সুসংগঠিত। এরপর দুপুরে জুমার নামাজের সময় পলোগ্রাউন্ড স্কুলের সামনে থেকে আরেকটি মিছিল বের করেন নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরা। এছাড়া ২ নম্বর ষোলশহর কর্ণফুলী মার্কেটের সামনেও ছাত্রলীগের তেজস্বী স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজপথ।
মিছিলগুলোতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের কণ্ঠে ছিল হারানো অধিকার ফিরে পাওয়ার দাবি। তাদের মতে, ছাত্রলীগ কোনো ভূঁইফোড় সংগঠন নয়, বরং এটি একটি আদর্শিক প্রতিষ্ঠান যা সাধারণ ছাত্রদের অধিকার রক্ষায় যুগে যুগে লড়েছে। বর্তমান প্রতিকূল সময়েও রাজপথে কর্মীদের এই উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, দমন-পীড়ন চালিয়ে এই ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করা অসম্ভব।
পুলিশের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেফতারের খবর পাওয়া গেলেও ছাত্রলীগের তৃণমূল কর্মীরা একে ‘অধিকার আদায়ের লড়াইয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ’ হিসেবেই দেখছেন। তারা মনে করেন, জেল-জুলুম সহ্য করে রাজপথে টিকে থাকাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ এবং চট্টগ্রামের এই তিনটি মিছিল সেই চ্যালেঞ্জ জয়েরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে জনবহুল এলাকায় প্রকাশ্য মিছিলে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ সাধারণ মানুষের মাঝেও সংগঠনটির শক্ত অবস্থানের বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ধারাবাহিক নিষেধাজ্ঞার মাঝেও চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে ছাত্রলীগের এমন সরব উপস্থিতি সংগঠনটির পুনরুত্থানের লক্ষণ। প্রতিকূলতা যত বাড়ছে, ছাত্রলীগের কর্মীরা ততটাই কৌশলী ও সাহসী হয়ে রাজপথে ফিরে আসছেন। আজকের এই মিছিলগুলো প্রমাণ করে যে, প্রতিকূল পরিবেশেও ছাত্রলীগকে দাবিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
